খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৯ ফাল্গুন ১৪৩০

“সবাই আমার আত্মীয়, আপন কেউ নয়”

এড.এম মাফতুন আহমেদ |
০১:৩০ এ.এম | ১৮ জানুয়ারী ২০২৪


আমরা কি আমাদের ১০০ বছর আগের প্রজন্মকে মনে রেখেছি? দাদার দাদা, নানার নানা বা অন্য পূর্ব পুরুষের কথা কি আমরা জানি? তাদের নামটাই ক’জন বলতে পারবে? মাত্র দু’ কি তিন পুরুষের ব্যবধানে নামটা পর্যন্ত হারিয়ে যায়, পরিচয় তো আরও অনেক পরে।
বিবেকের কাছে প্রশ্ন করি, কে আমার আপন? কে আমার মৃত্যুন্তে স্মরণ করবে? আমাকে স্মৃতিচারণ করবে? একদিন যাঁদের জন্যে জীবন-যৌবন দিয়েছিলাম, সৃষ্টিশীল কর্মে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলাম, তাদের হাতে একটু সময় হবে না আমাকে মনে রাখার। তারা হয়তো তখন নতুন স্বপ্নে বিভোর হবে। নতুন উদ্যামে জীবন সাজাবে।
জীবন তো ক্ষণস্থায়ী, পদ্মপাতার জল। ‘দম ফুরাইলেই ঠুস’ বা ‘এক সেকেণ্ডের নেই ভরসা, বন্ধ হবে সব রং তামাশা’, বাউলের ভাষায় ‘একদিন মাটির ভিতরে হবে ঘর রে মন আমার, কেন বন্ধ দালান ঘর’। 
বাউলের ভাষায়, ‘খ্রিস্টান হইলে কফিনে, মুসলিম হইলে কাফনে, হিন্দু হইলে চিতায় পুড়ে ছাই। ও মানব, দুই দিনের এই দুনিয়াতে, গৌরব করার নাই রে কিছু নাই।’
স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায়, ‘হে মানুষ! কোথায় চলে যাবি রে, পদ চিহ্ন রেখে যা।’ জীবন একটাই। চিহ্ন রেখে যাওয়ার সুযোগও একটাই। এ সুযোগ যে নেবে, সে-ই রয়ে যাবে শতবর্ষের স্মৃতিতে।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন-
“বন্ধু আমি পেয়েছি, যার সংখ্যা
আমি নিজেই ঘুণতে পারবো না
না! কিন্তু এরা সবাই আমার 
হাসির বন্ধু, ফুলের সওদার খরিদদার এরা।
এরা অনেকেই আমার আত্মীয় হয়ে ওঠেছে কিন্তু 
আপন হয়ে ওঠেনি কেউ”।
এটাই নির্মম সত্য। ক্ষুদ্র জীবনে চলার পথে আমরা কি তা মনে রাখি? কত ভালোবাসা! কত স্বপ্ন! জীবন ঘিরে কত আয়োজন!
ভেবে দেখি না, পৃথিবী থাকার স্থান নয়, চিরদিন এখানে থাকা যায় না, কেউ থাকেনি, থাকতে পারেনি, থাকতে পারবেও না, থাকা সম্ভবও নয়। থাকা নয়, বরং চলে যাওয়াই সুনিশ্চিত।
ফেলে যাওয়া সুন্দর বাড়িটা, শখের গাড়িটা, জমিজমা, ধনসম্পদ, টাকা-পয়সা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভোগ করবে। একই নিয়মে দিন চলবে, কর্মযজ্ঞ চলবে। ‘তখন এমনি করেই বাজবে বাঁশি এই নাটে, কাটবে গো দিন আজও যেমন দিন কাটে’। 
পৃথিবীর বুকে আজকের এই বেঁচে থাকা, এত হইচই, এতো মায়াকান্না সব এভাবেই চলতে থাকবে। থাকব না শুধু আমি। ‘একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি, শুধু সেই যিনি কায়িক পরিশ্রম করে ফুলের বাগান সাজিয়ে ছিলেন সেদিনের সেই মালী নেই’। 
লেখক : আইনজীবী, কলামিষ্ট, সম্পাদক-আজাদ বার্তা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ