খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১১ বৈশাখ ১৪৩১

সাহাবি জীবন : পাদরির যে কথা শুনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তালহা (রাঃ)

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৪ এ.এম | ২১ জানুয়ারী ২০২৪


হজরত তালহা রাদিয়াল­াহু তায়ালা আনহু ইসলামের সূচনা পর্বে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মুসলমান হয়েছিলেন। তার পুরো নাম আবু মুহাম্মাদ তালহা। বাবার নাম উবাইদুল­াহ ও মায়ের নাম সাবা। কুরাইশ গোত্রের তাইম শাখার সন্তান তিনি। হযরত আবু বকর রাদিয়াল­াহু তায়ালা আনহুও ছিলেন তাইম গোত্রের।
জাহেলি যুগে আবু বকর রাদিয়াল­াহু তায়ালা আনহুর বাড়িতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের নিয়মিত সদস্য ছিলেন তালহা ইবনে উবাইদুল­াহ রাদিয়াল­াহু তায়ালা আনহু। আবু বকর রাদিয়াল­াহু তায়ালা আনহুর দাওয়াতেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি বেশ চমকপ্রদ।
একবার তিনি কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার সঙ্গে সিরিয়ায় যান। বসরায় পৌঁছে কুরাইশ ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ বেচা-কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তালহা রাদিয়াল­াহু তায়ালা আনহু তখন বাজারে ঘুরাফেরা করছিলেন। এ সময় এমন একটি ঘটনা ঘটলো যা তালহার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। তিনি বলেন, ‘আমি তখন বসরার বাজারে। বাজারে একজন খৃস্টান পাদরিকে ঘোষণা করতে শুনলাম, তিনি বললেন, হে ব্যবসায়ী স¤প্রদায়! আপনারা এ বাজারে আগত লোকদের জিজ্ঞেস করুন, তাদের মধ্যে মক্কার কোনো লোক আছে কিনা। আমি তার কাছেই ছিলাম। দ্রুত তার কাছে গিয়ে বললাম, আমি মক্কার লোক। 
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে আহমাদ কি আত্মপ্রকাশ করেছেন? আমি বললাম, কোন আহমাদ? তিনি বললেন, আব্দুল­াহ ইবনে আব্দিল মুত্তালিবের পুত্র। যে মাসে তিনি আত্মপ্রকাশ করবেন, এটা সেই মাস। তিনি হবেন শেষ নবী। মক্কায় আত্মপ্রকাশ করে তিনি কালো পাথর ও খেজুর উদ্যান বিশিষ্ট ভূমির দিকে হিজরত করবেন। যুবক খুব তাড়াতাড়ি তোমার তার কাছে যাওয়া উচিত। 
তালহা রাদিয়াল­াহু তায়ালা আনহু বলেন, তার কথা আমার অন্তরে দারুণ প্রভাব সৃষ্টি করলো। আমি আমার কাফেলা ফেলে রেখে বাহনে সওয়ার হলাম। বাড়িতে পৌঁছেই পরিবারের লোকদের কাছে জিজ্ঞেস করলাম, আমার যাওয়ার পর মক্কায় নতুন কিছু ঘটেছে কি? তারা বললেন, হ্যাঁ, মুহাম্মদ ইবনে আবদিল­াহ নিজেকে নবী বলে দাবি করেছে এবং আবু কুহাফার ছেলে আবু বকর তার অনুসারী হয়েছে।
তালহা রাদিয়াল­াহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি আবু বকরের কাছে গেলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এ কথা কি সত্যি যে, মুহাম্মদ নবুওয়াতের দাবি করেছেন এবং আপনি তার অনুসারী হয়েছেন?
তিনি বললেন, হ্যাঁ, তারপর তিনি আমাকেও ইসলামের দাওয়াত দিলেন। আমি তখন খৃস্টান পাদরির কথা তার কাছে খুলে বললাম। তিনি আমাকে সঙ্গে সঙ্গে আল­াহর রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­ামের কাছে নিয়ে গেলেন। আমি সেখানে কালিমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং পাদরির কথা স্ববিস্তারে আল­াহর রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­ামের কাছে বললাম। শুনে তিনি দারুণ খুশি হলেন। এভাবে আমি আবু বকর রাদিয়াল­াহু তায়ালা আনহুর হাতে ইসলাম গ্রহণকারী চতুর্থ ব্যক্তি হলাম। (আসহাবে রাসূলের জীবনকথা, ১/৬৩)। 
সৌজন্যে ঢাকা পোষ্ট অনলাইন।

প্রিন্ট