খুলনা | শুক্রবার | ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

বিশ্বের ৭৭ শতাংশ ক্যান্সার রোগী হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৮ এ.এম | ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ২০৩০ সালে আমরা যখন এসডিজি অর্জন করবো, তখন সারা বিশ্বের ৭৭ শতাংশ ক্যান্সার রোগী থাকবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। আর  রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এভার কেয়ার হাসপাতাল আয়োজিত ক্যানসার সচেতনতামূলক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ডাঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী আছে ২২ লাখ। প্রতি বছর মারা যাচ্ছে দেড় লাখ রোগী। ২০৩০ সালে যখন এসডিজি অর্জন করবো, তখন বিশ্বের ৭৭ শতাংশ ক্যান্সার রোগী হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। আর বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ রোগী থাকবে এই অঞ্চলে। সুতরাং আমরা খারাপ অবস্থায় আছি।
খারাপ অবস্থার কয়েকটি কারণ উলে­খ করে তিনি বলেন, এর একটা হচ্ছে আমরা অবহেলা করি রোগকে। কিংবা আমাদের রোগ আছে, তবু আমরা এড়িয়ে চলি। এমনকি আমরা ব্রেস্ট ক্যানসারের রোগীকে চতুর্থ স্টেজে নিয়ে আসি। যাকে আর বাঁচানো যায় না। অথচ আর্লি ডায়াগানসিস নিজেই করতে পারে। সেটা যদি আমরা শেখাতে পারতাম, তাহলে অনেক রোগীকে বাঁচাতে পারতাম। 
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তিনটি রোগ কিডনি, হার্ট ও ক্যান্সারকে প্রাধান্য দিয়ে আট বিভাগে আটটি হাসপাতাল তৈরি করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমরা বিভাগ অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারবো। কিন্তু দুই লাখ রোগীর জন্য আমাদের দু’টি রেডিওথেরাপি সেন্টার থাকার কথা, সেদিকে গেলাম না। আমাদের দরকার ৭০টা সেন্টার, আছে ৩৫টা। মানে ৫০ শতাংশ সেন্টার আছে।
আস্থাহীনতার জন্য রোগীরা চিকিৎসার জন্য পাশের দেশে চলে যায় মন্তব্য করে উপাচার্য বলেন, আমাদের দেশে যা হতো, সেখানে গেলেও একই অবস্থা হয়। কিন্তু ওই দেশে চিকিৎসার পর তাদের আর কোনও অর্থ থাকে না। এ জন্য আমাদের আর্লি ডায়াগনসিস করা প্রয়োজন। রোগীদের বোঝাতে হবে যে যেখানেই যাওয়া হোক, চিকিৎসা একই হবে। এতে বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমত। আর আমরা যদি বাইরে যাওয়া রোধ করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে দেশের আর্থিক ক্ষতি হবে। 
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবির বলেন, আমরা যদি প্রথম অবস্থাতেই ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারি, তাহলে সেটা শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এতে পাশের দেশগুলোয় যেতে হবে না। আর ক্যানসারের পরবর্তী চিকিৎসার (কেমোথেরাপি) ধাপগুলো দেশের মানুষের জন্য একটা অর্থনৈতিক বড় চাপ। এর চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। তাই আমরা মনে করি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিয়েশন অনকোলজিস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ কাজী মোশতাক হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের ২৫০টি মেশিন দরকার সারাদেশে। অথচ সচল মেশিন আছে মাত্র ৪৪টি।
এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, রেডিয়েশন চিকিৎসার জন্য আমাদের প্রশিক্ষিত জনবলের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
এভারকেয়ার হাসপাতালের ডাঃ আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, আমাদের দেশে প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা দরকার হয়। এর জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমাদের একে অপরকে সাহায্য করা প্রয়োজন।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ