খুলনা | শুক্রবার | ২৬ জুলাই ২০২৪ | ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

নিপাহ ভাইরাস থেকে সচেতন থাকি

|
১২:২৮ এ.এম | ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪


২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় প্রথম রোগী শনাক্ত হয়, এর আগে ১৯৯৮ সালে বিশ্বে প্রথম চিহ্নিত করা হয় নিপাহ ভাইরাস। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩৪টি জেলায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগের মৃত্যুঝুঁকি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মারা গেছে ২ জন। কাঁচা খেজুরের রস পানে এ রোগ ছড়িয়ে থাকে। বাদুড়ের লালার সঙ্গে ভাইরাসটা থাকে। বাদুড় যখন কাঁচা খেজুরের রসে মুখ দেয় তখন ভাইরাসটা ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ যখন ওই রস পান করে তখন নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস। যার অর্থ হলো এটি প্রাথমিকভাবে প্রাণি এবং মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রামিত প্রাণি যেমন বাদুড় বা শূকর তাদের শরীরের তরল (যেমন রক্ত, প্রস্রাব বা লালা) সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভাইরাস সংক্রমণে আসার ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত লক্ষণগুলো প্রকাশিত হয়। যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বমি হতে পারে। মারাত্মক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে খিঁচুনি, মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)। 
নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য তেমন কোনো চিকিৎসা নেই। তবে উপসর্গ অনুসারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই রোগের কোনো টিকা বা বিশেষ চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সহায়ক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সবচেয়ে উত্তম নিপাহ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। তাই খেজুরের কাঁচা রস বা মাটিতে পড়ে থাকা ফল খাওয়া যাবে না এবং খেজুরের রস খেতে হলে ভালোমতো ফুটিয়ে তারপর খেতে হবে। আর ফলমূল ভালোমতো ধুয়ে তার পর খাওয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে যা আমরা বলে থাকি তা হলো খাবারের আগে এবং পরে হাত ভালোমতো সাবান দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। যেহেতু নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক বাদুড় তাই কোনোভাবেই খেজুরের কাঁচা রস পান করা উচিত নয়। কেউ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অবশ্যই পরিবারের অন্য সদস্যদের অথবা যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন অবশ্যই সচেতন হতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির লালা অথবা অন্য কোনো তরল পদার্থের সংস্পর্শে আসা যাবে না।
নিপাহ ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হলেও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় পরবর্তীকালে পড়তে পারেন, তাই অবশ্যই সচেতন হতে হবে সবাইকে। সংক্রামিত মানুষের লালা, মূত্র, মল বা রক্তের সংস্পর্শে এলে সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন নিপাহ ভাইরাসে। তাই সচেতন হতে হবে, নিজের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, যতœশীল হতে হবে। নিপাহ ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের শরীর থেকে সরাসরি সুস্থ মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়। তাই এ রোগের ভয়াবহতা সম্বন্ধে সবার সঠিক ধারণা থাকতে হবে এবং নিজেকে রক্ষা করতে হবে। আক্রান্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক বাদুড়, তাই প্রতিরোধ করার জন্য কোনোভাবেই খেজুরের কাঁচা রস পান করা যাবে না। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ