খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

দুর্ঘটনায় পথচারীর মৃত্যু বাড়ছে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

|
১২:০৮ এ.এম | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪


সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে যত মানুষ নিহত হয়, তার চারভাগের এক ভাগই পথচারী। সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি পথচারীর মৃত্যু হয় ঢাকা শহরে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে সড়কে সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। আমাদের সড়কে গণপরিবহনে ওঠানামার ক্ষেত্রে যে নিরাপদব্যবস্থা থাকার কথা, সেটা একেবারেই অনুপস্থিত। অনেক ক্ষেত্রে বাসের যাত্রীরা পথচারী হিসেবে মারা যাচ্ছে। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেরই সড়কে শৃঙ্খলা নেই। রাজধানীতে এখন মেট্রো রেল চলছে, কিন্তু বাসগুলোর রেষারেষি বন্ধ হয়নি। নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামে না। রাজধানীর যেসব রাস্তায় বাস চলাচল করে, সেসব রাস্তার যেকোনো স্থানে হাত তুললেই বাস দাঁড়িয়ে যাবে। যাত্রী তুলবে। অথচ এই ঢাকা শহরেই টিকিট কেটে সারিবদ্ধভাবে যাত্রীদের বাসে উঠতে দেখেছি আমরা।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনক। মহাসড়কে ডিভাইডার তৈরি করা হয়েছে। শ্লথগতির যানবাহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে যত আন্দোলন হয়েছে, যত আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, যত সুপারিশ এসেছে, সম্ভবত আর কোনো বিষয়ে তা হয়নি।
শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ পাস হয়, কিন্তু তার পরও সড়ক নিরাপদ হয়নি। একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। কত পরিবার যে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে নিঃস্ব হয়ে গেছে, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। যানবাহন চালক ও মালিকদের মানসিকতারও কোনো পরিবর্তন হয়নি।
একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটার পরও নির্বিকার থাকতে দেখা যায় তাঁদের। রাজধানীতে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা হচ্ছে। আইনের প্রতি তাঁদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই।
নেই কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতাও। সারা দেশে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে থাকছে গাড়ির স্টিয়ারিং। যখন কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়, তখন রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদবিহীন যানবাহন সরিয়ে ফেলা হয়। অভিযান শেষে আবার রাস্তায় নামানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিবহনকে শৃঙ্খলায় আনতে না পারার কারণে ঢাকার সড়কে পথচারীর মৃত্যু কমছে না। শৃঙ্খলা নেই বলেই ঢাকা শহরে হাঁটার পথকে নিরাপদ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক, স্বল্প ও দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত হকারের দখলে থাকা, ফুট ওভারব্রিজ যথাস্থানে নির্মিত না হওয়া ও ব্যবহার উপযোগি না থাকা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে অসচেতনতার কারণে অতিমাত্রায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে। বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি নিহত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহানি ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
আমরা কোনোমতেই এমন অনিরাপদ সড়ক চাই না। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। চালকদের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। গাড়ির ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো আপস করা যাবে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের অন্যতম শর্ত সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা। যেকোনো মূল্যে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। সব পক্ষের সহযোগিতায় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ