খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

খুবি তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আটক দু’জনের কারাদণ্ড, অবরোধ প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:২৬ এ.এম | ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪


৩ শিক্ষার্থীকে মারপিটের প্রতিবাদে জিরো পয়েন্ট এলাকা অবরোধ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এবং খুলনা মোংলা-মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অপর দিকে পুলিশ ২ পরিবহন শ্রমিককে আটক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেওয়ায় দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  দেড় ঘন্টা পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
খুবির শিক্ষার্থীরা বলেন, খুবি’র বাংলা বিভাগের-১৯ ব্যাচের ছাত্র লাবণ্য সরদার নব্য তার মা ও বোনকে নিয়ে পাইকগাছা থেকে খুলনাগামী বাসে ওঠেন। বাসের মধ্যে জায়গা সংকুলন না হওয়ায় নব্য তার একটি পা বাসের প্যাসেজে রাখেন। বাসের ২ জনের সিটে ৩ জন বসায় একজনের পা বের হয়ে যাচ্ছিল। এতে কেউ একজনের সমস্যা হচ্ছিল। তখন সে বলে আমার বোন অসুস্থ। তিনজন বসায় পা একটু বের হয়ে যাচ্ছে। এ সময় বাসের ৩/৪ জন মিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালি ও হুমকি দিয়েছে। বাসটি জিরো পয়েন্ট আসলে নব্য আমাদের ২ শিক্ষার্থীকে ডাকে তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। শিক্ষার্থীরা বাসে যারা খারাপ ব্যবহার করেছে তাদের ডেকে কি কারণে খারাপ ব্যবহার করেছে জানতে চায়। এ সময় তাদের উপর অতর্কিত হামলা হয়। বাসে তুলে সোনাডাঙ্গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে তাদের কি সমিতি রয়েছে তার ভয় দেখায়।  
এ রকম যদি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর বার বার হামলা হয় তাহলে আমরা খুলনায় চলতে পারবো না। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের উপর যেন কোন হামলা না হয়। কিংবা পরবর্তীতে কেউ যেন হামলা করার সাহস না পায় সেটা নিশ্চিত করতে। যারা এ হামলা করেছে তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।  
শিক্ষার্থীরা জানান, খুবি’র মাস্টার্সের ছাত্র লাবণ্য সরদার নব্য  সকালে তার অসুস্থ মাকে নিয়ে পাইকগাছা থেকে বাসে খুলনায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাসের হেল্পার ও সুপারভাইজার তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। বিষয়টি তিনি অন্য শিক্ষার্থীদের জানালে তারা জিরো পয়েন্ট এলাকায় আসে। তখন পরিবহন শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে শিক্ষার্থী নব্য, আসিফ মাহমুদ ও অলোকেশকে মারধর করে।
এর প্রতিবাদে বেলা ১১টায় জিরো পয়েন্ট এলাকায় সড়ক অবরোধ শুরু করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ২ পরিবহন শ্রমিককে আটক করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় পুলিশ কর্মকর্তারা। দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
খুবি’র সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালক রাজু রায় বলেন, আমাদের তিন জন শিক্ষার্থীকে মারধর করলে তারা তাদের দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ ভাবে রাস্তা অবরোধ করে। প্রশাসনের সহোযোগিতায় এবং আমাদের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নিয়েছে। তিনি আরও জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে। আহত তিন শিক্ষার্থী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন।
কেএমপির সহকারী কমিশনার এসি আবু নাসের আল আমিন, খুবি’র ছাত্র বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান সিদ্দিকী, জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বিপ্লব জিরোপয়েন্টে এসে ছাত্রদেরকে জানান, তারা হামলাকারী বাস শ্রমিকদের গ্রেফতার করেছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে ছাত্ররা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।
অনলাইন গণমাধ্যমকে কেএমপির সহকারী কমিশনার মোঃ আবু নাসের আল-আমিন জানান, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে চলে আসে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যুক্তিসঙ্গত। বাসসহ বাস চালক ও তার সহযোগীকে আমরা ধরে থানায় নিয়ে এসেছি। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক শিক্ষার্থী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাথে সমঝোতা হয়। এছাড়া কেএমপি ক্ষমতা বলে তাদের দুই দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ