খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

অনুমোদনহীন ইটভাটা ও সরকারি রাস্তা ভোগদখলের অভিযোগ

রূপসার ঘাটভোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস শিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:৩৭ এ.এম | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪


রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনুমোদনহীন ইটভাটা নির্মাণ, বন্দোবস্ত ছাড়াই সরকারি রাস্তা ভোগদখল ও পাওনা টাকা পরিশোধ না করে জোরপূর্বক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর ব্যবসা করার প্রতিবাদে সাবেক ঘাটভোগ ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস শিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আকতার শিকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কামরুল শিকদার, মনোয়ারা বেগম, নাসরিন আক্তার, আখি খাতুন, শাহানা বেগম, জুয়েল শিকদার, মোঃ আবু সাঈদ ও হাফেজ আবুল বাসার।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুস শিকদারের অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তি দ্বারা এলাকার দুর্বল মানুষেরা সব সময় নিষ্পেষিত। ইউনুস শিকদার সম্পর্কে আকতার শিকদারের চাচা হলেও তার পরিবারের সদস্য দ্বারা তিনি হামলা, মামলা ও জীবননাশের হুমকির শিকার হয়ে আসছেন। তার সরলতার সুযোগ পেয়ে ইউনুস শিকদার নিজের জমির পাশাপাশি আকতার শিকদার ও অন্য চাচার জমি দখলে নিয়ে ২০১৭ ওই ইটভাটা নির্মাণ করেন। এর মধ্যে তার পিতা ইউসুফ শিকদার ও চাচা  তৈয়ব শিকদারের দুই একর করে সমপরিমাণ জায়গা রয়েছে। বিনিময়ে প্রতিমাসে ৬০ হাজার টাকা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু অদ্যবধি কোনো টাকা বুঝে পায়নি। বার বার তার কাছে বলার পরও বিষয়টি তিনি কর্ণপাত করেননি। জমি দখলের প্রতিবাদ করায় আকতার শিকদারে নামে ইউনুস শিকদার আটটি মামলা দায়ের করেন যা এখনো বিচারাধীন। এর আগে ২০১২ সালে তিনি ইটভাটা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন প্রতিবাদ করায় আকতার শিকদারের নামে ১২টি মামলা দেয়া হয়। পরে এসব মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আকতার শিকদার এলাকার ইটভাটাতে মাটি সরবরাহের ব্যবসা করেন। এ কারণে মৌখিক চুক্তিতে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউনুস শিকদারের ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করে আসছেন তিনি। মাটি সরবরাহের কিছু টাকা পেলেও এখনও ৩৮ লাখ টাকা তার কাছে পাওনা রয়েছে। সেই টাকার জন্য বারবার বলার পরও পরিশোধ না করে সে এবং তার ছেলের গুন্ডা বাহিনী দিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত জীবন নাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
স¤প্রতি ইটভাটা নির্মাণের নেপথ্যে খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন পরিবেশের অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রসাশনের অনুমোদন ও আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র নেই। আঠারোবেঁকী নদীর চরের বিশাল জায়গা তিনি কোন রকম বন্দোবস্ত ছাড়াই ভোগ দখল করছেন। গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার ইট বিছানো রাস্তা দখল করে নিয়ে ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। এস এ ও আর এস ম্যাপে রাস্তা দেখানো আছে। 
গ্রামবাসীর প্রতিবাদের পরেও তিনি অস্বীকার করে আসছেন। এছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা নির্মাণ আইনত নিষিদ্ধ হলেও ইউনুস শিকদার আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এহেন কার্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে গ্রামের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গত ৫ ফেব্র“য়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালিত এ ইটভাটায়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ