খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

টিটিসি’র শিক্ষক মারুফের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ

খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি |
০২:৪২ এ.এম | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪


খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ইন্সটেক্টর মোঃ মারুফ আহমেদ সন্ত্রাসী হামলা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণের উপকরণ না পাওয়ায় অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম অবরুদ্ধ। গতকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা অধ্যক্ষকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে প্রশাসন এবং সিনিয়র শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 
এর আগে প্রতিষ্ঠানে ইন্সটেক্টর মোঃ মারুফ আহমেদ সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ১৯ ফেব্র“য়ারি সন্ধ্যায় তিনি তেলিগাতী বাইপাসে হাটতে বের হলে মোটরসাইকেল যোগে দুই যুবক অতর্কিত ভাবে তার উপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি জীবন বাঁচাতে চিৎকার দিলে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসল সন্ত্রসীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তার সহকর্মীরা হসপাতালে ছুটে যান। এ সময় তারা এ ঘটনার জন্য অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামকে দায়ী করেন। তাদের অভিযোগ অধ্যক্ষের বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়ায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হয়রানিমূলক হুমকি-ধামকির অংশ হিসেবে অধ্যক্ষ বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে এ হামলা চালিয়েছে।
তাদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরবতায় এই অঞ্চলের সুনামধন্য ঐহিত্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মরতরা আজ হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এদিকে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ সামগ্রী প্রদান না করায় গতকাল সকালে তারা অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। দিনভর প্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখাগেছে। 
এদিকে, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের উপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শিক্ষকের উপর হামলা এবং শিক্ষার্থীদেরকে প্রশিক্ষণের উপকরণ সামগ্রী প্রদান না করায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে শিক্ষকদের হস্থক্ষেপে শিক্ষার্থীদেরকে শান্ত করে অধ্যক্ষের কক্ষের বাহিরে নিয়ে যায়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে অধ্যক্ষের পক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বৈঠকে বসেন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা জানান, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ২০০৭ সালে চাকুরিতে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্গারী, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে কর্মকালীন ১৬ বছরে ৭/৮ বার বদলী হয়েছে। বদলীগুলো তার স্বাভাবিক ছিল না, এই প্রতিষ্ঠানে আসার পর থেকে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 
এদিকে, অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি গত ২ জানুয়ারী প্রতিষ্ঠানে এসে তাদের তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ