খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

পাকিস্তানে অবশেষে গঠিত হচ্ছে সরকার

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৯ পি.এম | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪


কয়েক দিনের দফায় দফায় দর-কষাকষির পর অবশেষে জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে পাকিস্তান। কে কীভাবে কাদের সঙ্গে সরকার গঠন করবে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে শেষপর্যন্ত দুই বড় দল এর সমাধানে এসেছে।

ডনের খবরে বলা হয়েছে, জোট সরকার গড়তে একমত হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন পিএমএল-এন নেতা শাহবাজ শরিফ। আর প্রেসিডেন্ট হবেন পিপিপির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি।

খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসলামাবাদে জারদারির বাসভবনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এ ঘোষণা দেন। এর ফলে নির্বাচনের পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল তা আপাতত কাটলো বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি এবং পিএমএল-এন প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন অর্জন করেছে এবং এখন আমরা সরকার গঠনের অবস্থানে আছি। পিপিপি ও পিএমএল-এন জোট সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। পিএমএল-এন নেতা শাহবাজ শরিফ আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে পিপিপির আসিফ আলী জারদারিকে সমর্থন দেয়ার জন্য পিএমএল-এনকে ধন্যবাদ জানান বিলাওয়াল ভুট্টো। তিনি বলেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিল কেন্দ্রে সরকার গঠনের মতো সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে শাহবাজ শরিফ বলেন, আসিফ আলি জারদারিকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রয়োজনীয় ভোট তাদের আছে।

জোট সরকার সরকার গঠনে একমত হলেও পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ যাত্রা সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, পরবর্তী সরকারের সামনের যাত্রা সহজ হবে না। অনেক অসুবিধা এবং বাধার মধ্য দিয়ে জোট সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানসহ অন্য মিত্র দলগুলোকে ধন্যবাদ জানান শাহবাজ।

তবে নতুন সরকারের মন্ত্রীসভায় তারা কোন কোন মন্ত্রণালয়গুলো নেবেন বা পাবেন সেটি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিলাওয়াল।

এদিকে পাকিস্তানে এবারের ভোটের অনিয়মকে ‘সব ডাকাতির মা’ আখ্যা দিয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারান্তরীণ ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

মঙ্গলবার আদিয়ালা জেলে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার পর তার বক্তব্য গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন বোন আলিমা খান। পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’ পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।

এবারের ভোটের অনিয়মকে ‘সব ডাকাতির মা’ বলতে ইমরান বোঝাতে চেয়েছেন, নির্বাচনের আগে থেকেই পিটিআই সরকারি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। নির্বাচনে দলের ‘ব্যাট’ প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

বিভিন্ন এলাকায় দলের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নও জমা দিতে দেওয়া হয়নি। অনেক প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি প্রার্থীদের প্রচারেও বাধা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা এবং ভোটের দিন বিলম্বেরও সমালোচনা করেছেন ইমরান খান।

কারাগার থেকে বার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন সব ডাকাতির মা এখন বন্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ পাকিস্তান বিশ্বজুড়ে হাসির পাত্র হয়ে গেছে।

ইমরানের সঙ্গে কথা বলার পর আদিয়ালা জেলের বাইরে এসে তার বোন আলিমা খান গণমাধ্যমকে জানান, তার ভাই চান- পাকিস্তানে দায়মুক্তি সংস্কৃতির অবসান হোক এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম রক্ষায় জনরায়কে সম্মান করা হোক।

ইমরান খান তার প্রধান প্রতিপক্ষ নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এনকে নিয়েও সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, দলটি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা গ্রহণের জন্য সব আদর্শ বিসর্জন দিয়েছে। ভোটকে সম্মান না করে তারা বুটকে সম্মান করেছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বানে সর্বোচ্চ ৯২টি আসন পায় পিটিআইয়ের স্বতন্ত্ররা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৫টি আসন পায় পিএমএলএন। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ৫৪টি আসন পায় পিপিপি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ