খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১১ বৈশাখ ১৪৩১

ছেলের অভিযোগ বাবার দিকে

যশোরে পুড়ে ছাই গরু-ছাগলসহ ঘরের আসবাবপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর |
১২:২৫ এ.এম | ০৪ মার্চ ২০২৪


ক্ষোভের আগুনে পুড়লো সাবিনা বেগমের (৪০) ছোট্ট সংসার। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়েছে তার জীবিকা। চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার বলিরেখা। আগুনে তার দু’টি গরু, একটি ছাগল, খাট-তোশক, চাল-ডাল, হাঁড়িপাতিল সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
গতকাল রোববার ভোররাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের জাফরনগর মাঠপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন সাবিনা বেগম ও তার বড় সন্তান সজীব হোসেন (২১)।
সজীব হোসেন জানান, দুই আড়াই বছর আগে জাফনগর মাঠপাড়ায় তারা বাড়িটি করেন। ছোট্ট এই ঘরে ছাউনিতে টালি আর কাঠের বেড়া। তিনি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। রোববার ভোর ৪টার দিকে পান নিয়ে তার বাজারে যাওয়ার কথা ছিল। ওই সময় পান ব্যবসায়ী ডাকতে এসে প্রথম আগুন দেখতে পায়। এরপর মাঠে পানি দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ইমদাদুল নামে একজন চিৎকার করতে থাকেন। তারা ঘর থেকে বেরিয়ে প্রথমে গরু এবং ছাগলের ঘরের তালা খুলে দেয়। কিন্তু আগুনের লেলিহান শিখায় ৬ মাসের অন্তঃসত্ত¡া একটি শংকর প্রজাতির গাভি, ৬ মাস আগে কেনা একটি জার্সি জাতের বাছুর ও একটি ছাগলসহ ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তার দাবি, আগুনে তাদের সব মিলিয়ে তিন লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
সজীব হোসেন বলেন, তিন দিন আগেও আমার বাবা এই জায়গা থেকে চলে যেতে আমাদের হুমকি দেন। চলে না গেলে আমাদের পুড়িয়ে মারা হবে বলেও শাসান। আমার বিশ্বাস, এই আগুন আমার বাবাই দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সাবিনা বেগম বলেন, বছর তিনেক আগে স্বামী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে তালাক হয়ে যায়। পেশায় রাজমিস্ত্রি তরিকুল পাশের গ্রামে আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করেন। আমরা যে জমিতে থাকি সেটি সাত শতাংশের মতো। এর মধ্যে দুই শতাংশ জমি যেখানে গরু-ছাগল এবং আমি থাকি। সেই অংশটি আমার টাকায় কেনা। দুই আড়াই বছর আগে এখানে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে বাড়ি করা। একসঙ্গে থাকাকালে এই জমিটি আমার টাকায় কেনা ছিল। বাকি পাঁচ শতাংশ জমি তরিকুল ইসলাম তার বোনদের নামে লিখে দেন। সেখানে আমার বড় ছেলে থাকে। তরিকুল ইসলাম এই জমি থেকে আমাদের উচ্ছেদের জন্য প্রায় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানায় একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
পাশের বাসায় থাকেন তরিকুল ইসলামের মা রাবেয়া বেগম। তিনি আপেল জুট মিলে কাজ করেন। ঘটনার ব্যাপারে তিনি বলেন, সকালে কাজ থেকে ফিরে জানতে পারি আগুন লেগেছে। কে বা কারা লাগিয়েছে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
এ বিষয়ে জানতে তরিকুল ইসলামকে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, শুনেছি ওই বাড়িতে আগুন লেগেছে। সেখানে আমার কোনও জমি নেই। সেখানে আমার স্ত্রীও নেই। আমি নতুন করে সংসার করছি। যেহেতু জমিজমা কিছুই নেই সেখানে, সে কারণে এসব অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আগুনে দু’টি গরু, একটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ