খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

বিশ রাকাত তারাবীর দলিল

মুফতি রবিউল ইসলাম রাফে |
০১:৪৩ এ.এম | ২৮ মার্চ ২০২৪


আজ ১৭ রমজান। নেকী কামায়ের মৌসুম রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো তারাবির নামাজ। বিশ রাকাত তারাবীর দলিল হাদিসে মওজুত রয়েছে। সহীহ হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় তারাবির নামাজ আদায় করবে তার অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে (বুখারী, মুসলিম)। নাযন ইবনে শায়বান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসের একাংশে হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আল­াহ তোমাদের উপর রমজানের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের উপরের তারাবির নামাযকে সুন্নত সাব্যস্ত করেছি। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রোজা ও তারাবির নামাজ আদায় করবে সে এমন ভাবে গোনাহ্মুক্ত হবে যেন এই মাত্র তার মা তাকে প্রসব করল (ইবনে মাজাহ)। অন্যান্য বছর রোজার প্রথমদিন থেকেই তারাবীর নামাজে মসজিদ গুলো ভরে যেত মুসলি­তে। কিন্তু এ বছর করোনা মহামারীর কারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার ফলে মুসলি­রা নিজ নিজ বাড়িতে তারাবি আদায় করছেন। কেউ কেউ আবার ক্ষুদ্র পরিসরে নিজ বাড়িতে হাফেজদের পিছনে তারাবীর নামাজ জামাতে আদায় করছেন। তারাবির নামাজের ফজিলত হুজুর (সাঃ) এর কাছে এত বেশী ছিল যে, তিনি জামাতের সাথে সাহাবীদের নিয়ে এই নামাজ বেশ কয়েক দিন আদায় করেছিলেন (ছিহাহ্ সিত্তা)। তবে এই নামাজ উম্মতের উপর ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি পরবর্তীতে জামাতের এহতেমাম করেননি। কিন্তু সাহাবায়েকেরাম (রাঃ) তখনও বিচ্ছিন্ন ভাবে জামাতের সাথে অথবা একাকী এই নামাজ আদায় করেছেন। যাক্ওয়ান আবু আমর (রঃ) নবী করীম (সঃ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর ক্রীতদাস ছিলেন। উক্ত যাক্ওয়ান রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়িতেন এবং আয়েশা (রাঃ) তার পিছনে অন্যান্যদের সাথে মুকতাদী হয়ে নামাজ পড়তেন অথবা তার কুরআন পাঠ শুনতেন (মুয়াত্ত মালিক, তারাবি অধ্যায়)। সহিহ হাদিসগ্রন্থ মুয়াত্ত মালিক কিতাবে বর্ণিত আছে, হযরত উমর (রাঃ)-এর খেলাফত কালে সাহাবীরা রমজানে ২০ রাকাত তারাবি ও ৩ রাকাত বিতর পড়তেন। ইহাই শেষ পর্যন্ত স্থির করা হয় (মুয়াত্ত মালিক, তারাবিহ অধ্যায়)। 
লেখক: আরবী সাহিত্যিক ও মুহাদ্দিস, জামি’য়া ইসলামিয়া মারকাযুল উলূম, বাগমারা, খুলনা।

প্রিন্ট