খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

রোজার উদ্দেশ্য খোদাভীতি অর্জন

ড. আবু যুবায়ের |
০১:২৪ এ.এম | ২৯ মার্চ ২০২৪


আজ ১৮ রমজান। রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস। মহান আল­াহ জাল­াশানুুহ্ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন, হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও ফরজ করা হয়েছিল যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার (বাকারা: ১৮৩)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া হাসিল করা। তাকওয়া আরবি শব্দ। এর বাংলা অর্থ হলো খোদাভীতি, পরহেযগারী বা নিজেকে কোন কিছু থেকে বাঁচিয়ে রাখা। তাকওয়া কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশিষ্ট সাহাবী উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কেউ কোন কন্টকাকীর্ণ রাস্তায় চলে তাহলে সে নিজেকে এবং তার পোশাককে প্রতি পদে পদে বাঁচিয়ে রাখে যাতে কাঁটা তার গায়ে না বিধে এবং কাঁটার খোঁচায় তার পোশাক ছিন্নভিন্ন না হয়। এটাই হলো তাকওয়া। একজন প্রকৃত মুমিন ব্যক্তিও সর্বপ্রকার পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে, এটাই রোজার লক্ষ্য। আমরা অনেক সময় খুব কষ্ট করে হলেও রোজা পালন করি, কিন্তু নিজেকে গোনাহ থেকে পরহেয করি না। এতে রোজার আসল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়। মহাপরাক্রমশালী আল­াহ পাকের ভয়ে সমস্ত নাজায়েজ কাজ থেকে বেঁচে থাকার নামই তাকওয়া। যারা তাকওয়া অর্জন করে  তাদের  বলা হয় মুত্তাকি। আর মুত্তাকিদের জন্য পরকালে রয়েছে অঢেল প্রতিদান ও পুরস্কার। জান্নাতে তাদের দেয়া হবে অগণিত নেয়ামত। মহান আল­াহ রব্বুল আ’লামীন পবিত্র কুরআন মাজীদে মুত্তাকিদের পুরস্কার ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, নিশ্চয় মুত্তাকিদের জন্য রয়েছে সাফল্য। উদ্যান, আঙ্গুর; সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী এবং পূর্ণ পানপাত্র। তারা সেখানে অসার ও মিথ্যা কথা শুনবে না। এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে যথোচিত প্রতিদান (সূরা আন নাবা: ৩১-৩৬)। এই দুনিয়ায় সবাই চায় তার ধন সম্পদ অঢেল হোক, উত্তম পানাহার হোক, নয়নাভিরাম বাসস্থান হোক, চাকর-নকর পরিবেষ্টিত বাদশাহী থাকুক, সুশ্রী চিরযৌবনা স্ত্রী হোক ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এগুলো অবাস্তব কিছু নয়; সবই মানুষের স্বভাবগত কামনার বস্তু। মহান আল­াহ তায়ালাই মানুষের অন্তরে  এগুলোর চাহিদা ও বুঝ দান করেছেন যাতে সে পরকালের পুরস্কারের ব্যাপারে আন্দাজ করতে পারে। তবে এগুলো দুনিয়াতে কখনই পুরণ হবে না। কারণ দুনিয়া ভোগ বিলাসের জায়গা না, এটা আমলের জায়গা। ভোগ-বিলাস ও কামনা-বাসনা পূরণের জায়গা হলো জান্নাত যেখানে মন যা চায় তাই পাওয়া যাবে। রমজানের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বান্দা তাকওয়া হাসিলের সুযোগ পায়, যার মাধ্যমে পরকালে বিশাল বাদশাহির মালিক হওয়া যায়।

প্রিন্ট