খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

ঈদযাত্রায় ট্রেন যাত্রীদের ভোগান্তি কমান

|
১২:০৯ এ.এম | ৩০ মার্চ ২০২৪


প্রতিবছর ঈদে বাড়ি যাওয়া নিয়ে যাত্রীরা ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েন। কিন্তু তাঁদের এই ভোগান্তি দূর করা যাঁদের দায়িত্ব, তাঁরা সেটা কতটা পালন করছেন, সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। এ ক্ষেত্রে সদিচ্ছা ও সক্ষমতা দুটো’রই ঘাটতি আছে। ঈদ এলেই মন্ত্রী-সচিবেরা যাত্রীদের স্বস্তি দেওয়া হবে বলে নানা রকম আশ্বাসবাণী শোনালেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। 
অন্যবার ঈদের আগে ট্রেন, লঞ্চ ও বাস প্রতিটি পরিবহনে টিকিটের জন্য যাত্রীরা প্রচন্ড ভিড় করলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। গণমাধ্যম প্রতিবেদক ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখতে পান, ঈদের আগাম টিকিট নেওয়ার জন্য তেমন ভিড় নেই। স্বল্পসংখ্যক যাত্রী টিকিট নিতে এসেছেন এবং বাস মালিকেরা তাঁদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। অবশ্য পরিবহনকর্মীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের দাবি, অন্য সময় তাঁরা বিআরটিসির বাসের চেয়েও কম ভাড়া নেন এবং ঈদের সময় ‘স্বাভাবিক’ ভাড়া নিয়ে সেটি পুষিয়ে নেন। কোনটি সত্য?
ঈদ সামনে রেখে বাসে যখন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না, তখন ট্রেনের টিকিটের জন্য কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে। এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। রেলপথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনের ৩৩ হাজার ৫০০টি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। নন-এসি কামরায় মোট আসনের এক-চতুর্থাংশের সমান দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করা হবে। ফিরতি ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৩ এপ্রিল থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির চতুর্থ দিন বুধবার সকালে প্রথম আধা ঘণ্টায় একেকটি টিকিটের জন্য গড়ে ৬০০ মানুষ চেষ্টা চালিয়েছেন বলে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ১৫ হাজার টিকিট দুপুর দুইটার আগেই শেষ হয়ে যায়। ওই অঞ্চলে টিকিট বিক্রির প্রথম ১৫ মিনিটেই বিক্রি হয় সাড়ে সাত হাজার টিকিট। সকাল সাড়ে ১০টায় সাড়ে ১৩ হাজার টিকিট বিক্রি হয়।
যাত্রীদের যে চাহিদা, তাতে প্রতিদিন ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার জন্যই কমপক্ষে চার লাখ টিকিট দরকার। কিন্তু রেলের আন্তঃনগর ট্রেনের ৩০ হাজারের কিছু বেশি টিকিট প্রতিদিন বিক্রি করা হয়। মেইল, লোকাল ও অন্যান্য ট্রেন মিলে সারা দেশে দেড় লাখ টিকিট বিক্রির জন্য নির্ধারিত আছে।
রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী জানিয়েছিলেন, ‘এবার ঈদে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হবে।’ ১৬ জোড়া নয় কেন? প্রতি ঈদেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। যাত্রীরা ট্রেনকেই সবচেয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহন ভাবলেও যাত্রীসেবা বাড়াতে কর্তৃপক্ষের তেমন চেষ্টা নেই। এর কারণ হিসেবে অর্থের ঘাটতির কথা বলা হয়। কিন্তু যে রেলওয়ের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অব্যবহৃত আছে, সেই রেলওয়েকে কেন বছরে দুই হাজার কোটি টাকা লোকসান দিতে হবে। রেলওয়ের বেহাত হওয়া জমি ও সম্পদ উদ্ধার করলেই এটি সাবলম্বী প্রতিষ্ঠান হতে পারে। রেলের অনিয়ম, দুর্নীতি, টিকিট কালোবাজারি বন্ধ হলেই ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। অতীতে যাঁরা রেলওয়ের মন্ত্রী হয়ে এসেছেন, তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপচয় বন্ধ করতে পারেননি। বর্তমান মন্ত্রী পারবেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ