খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

এতেকাফের ফজিলত

ড. আবু যুবায়ের |
১২:৫৫ এ.এম | ৩০ মার্চ ২০২৪


আজ ১৯ রমজান। মাগফিরাত বা ক্ষমার দশকের আর মাত্র এক দিন বাকি আছে। রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এতেকাফ। রমজানের শেষ ১০ দিন এতেকাফ করা সুন্নত।  এ বছর করোনা মহামারীর কারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক মুসলি­ ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও হয়ত মসজিদে ইতেকাফ করতে পারবেন না। তবে মহল­ার পক্ষ থেকে যদি কেউ এতেকাফ করে তাহলে ঐ মহল­ার সবার জিম্মাদারী আদায় হয়ে যাবে। এতেকাফের উদ্দেশ্য সেই মহিমান্বিত রাত বা শবে কদরের তালাশ, যা হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। শবে কদরেই পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন নাজিল হয়। মহান আল­াহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় আমি কদরের রাত্রিতে এই কুরআন নাজিল করেছি। আপনি জানেন কি কদরের রাত্রি কি? কদরের রাত্রি হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম (সূরা কদর)। সুতরাং, কদরের রাতে কেউ যদি ইবাদত করে তাহলে  সে এক হাজার মাস অর্থাৎ তিরাশি বছর চার মাসেরও বেশী  ইবাদত করার ছওয়াব প্রাপ্ত হবে। কুরআনে এক হাজার বছরের সমান বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে এক হাজার মাস অপেক্ষাও বেশী। আর বেশীর পরিমাণও আমরা জানিনা, মহান আল­াহই ভালো জানেন।  যেহেতু হাদিসের বিশুদ্ধ মতে রমজানের শেষ দশকেই রয়েছে অতিমর্যাদাশীল রজনী শবে কদর, সে কারণে রাসুলে আকরাম (সাঃ) রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে নিয়মিত এতেকাফ করতেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী করীম (সাঃ) হায়াতের শেষ পর্যন্ত  নিয়মিত শেষ দশকে এতেকাফ করেছেন এবং তার ওফাতের পর তার পবিত্র স্ত্রীগণও এতেকাফ করেছেন (বুখারী, মুসলিম)। এতেকাফ আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ কোন স্থানে নিজেকে আবদ্ধ রাখা। আর শরিয়তের পরিভাষায়, এক বিশেষ সময়ে এক বিশেষ নিয়মে নিজেকে মসজিদে আবদ্ধ রাখাকে এতেকাফ বলা হয়। এতেকাফ করা বহু পূণ্যের কাজ। রাসুলে কারীম (সাঃ) এরশাদ করেন, এতেকাফকারী যাবতীয় পোপ থেকে মুক্ত থাকে এবং তার জন্য নেকীসমূহ লিখা হয় ঐ ব্যাক্তির ন্যায় যে (বাহিরে থেকে) যাবতীয় নেক আমল করে (মেশকাতুল মাসাবীহ)। অপর এক দীর্ঘ হাদিসের অংশ বিশেষে এরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আল­াহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিন এতেকাফ করবে আল­াহপাক তার এবং জাহান্নামের মধ্যে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। যার এক খন্দকের দূরত্ব আসমান ও জমিনের দূরুত্বের চেয়েও বেশী (তাবারানী, বায়হাকী)। রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদাহ, অর্থাৎ মহল­ার পক্ষ থেকে যদি কেউ এতেকাফ করে  তাহলে ঐ মহল­ার সবার জিম্মাদারী আদায় হয়ে যাবে। আর যদি কোন মহল­ার কেহই এতেকাফ না করে তাহলে সবাই গোনাহগার হবে। আমরা দুনিয়াবী নানা ঝামেলার কারণে মন-প্রাণ দিয়ে  আল­াহকে ডাকতে পারি না। এতেকাফ আমাদের জন্য বছরে একবার এই সুযোগ করে দেয় যে দুনিয়ার মায়ামহ ত্যাগ করে মসজিদে পড়ে থেকে নাছোড়বান্দা হয়ে একান্ত ভাবে মাওলাকে ডাকা যায়। পাঠক চিন্তা করুন, কেউ যদি আপনার পা জড়িয়ে ধরে নাছোড়বান্দা হয়ে বার বার দশ টাকা চাইতে থাকে, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই তাকে তা এক সময় দিয়ে দিবেন। এতেকাফের ব্যাপারটাও এমন। আল­াহর ঘর মসজিদে বসে কেউ যদি বার বার কিছু চাইতে থাকে তবে মহান আল­াহতায়ালাও তাকে অবশ্যই দিয়ে দিবেন। তবে এতেকাফকারীর উচিত শুধু নিজের জন্য দোয়া  না করে সমগ্র উম্মতের জন্য দোয়া ও এস্তেগফার করা। 

প্রিন্ট