খুলনা | সোমবার | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮

কাল থেকে আউটডোরে রোগী দেখা শুরু, ভর্তি সোমবার : নগর ও জেলায় শনাক্তের হার ৬ শতাংশ, মৃত্যু ২

স্বাস্থ্য সেবায় ফিরছে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, থাকছে না করোনা ইউনিট

মোহাম্মদ মিলন |
০১:০৩ এ.এম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

খুলনায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যাও কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ৬ শতাংশ। আর খুলনার পাঁচ হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ধারণ ক্ষমতার ২২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ফলে হাসপাতালগুলোতে খালি রয়েছে ৭৭ শতাংশ শয্যা। এর মধ্যে টানা পাঁচ দিন রোগী শূন্য রয়েছে খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা ইউনিট। ফলে রোগী না থাকায় হাসপাতালটির ৮০ শয্যার করোনা ইউনিট আর থাকছে না।
খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, রোগী না থাকায় খুলনা জেনারেল হাসপাতাল আগের মতোই সাধারণ রোগীদের জন্য প্রস্তুতি করা হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার থেকে আউটডোরে রোগী দেখা শুরু হবে। আর সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে রোগী ভর্তি নেওয়া হবে।
অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা ও মহানগর করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানলে করোনা নিয়ন্ত্রনে থাকবে। করোনা আক্রান্ত রোগী কমে যাওয়ায় খুলনা জেনারেল হাসপাতাল আর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল থাকছে না। এখানে আগের মতোই অন্যান্য সাধারণ রোগীর চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। নগরীর দোকান, মার্কেট ও যানবাহনে মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করা হবে।
হাসপাতালগুলোর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুলনায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসায় পাঁচটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। যার মধ্যে তিনটি সরকারি ও দু’টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে রোগীদের জন্য রয়েছে ৫৬৫ শয্যা। এর মধ্যে ৮০ শয্যার খুলনা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কোনো রোগী নেই। আর খুলনার বাকী হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি রয়েছে ১২৮ জন। এর মধ্যে খুলনা ২০০ শয্যার  করোনা হাসপাতালে ৭০ জন, ৪৫ শয্যার শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ১৯ জন, ৯০ শয্যার খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন এবং ১৫০ শয্যার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। আর খুলনা সদর হাসপাতালের ৮০ শয্যার করোনা ইউনিট সম্পূর্ণ খালি রয়েছে। গত ৫ দিন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি, বরং সম্পূর্ণ ইউনিট রোগী শূন্য রয়েছে। 
এর আগে ২০ জুন করোনায় আক্রান্ত রোগীর চাপ সামলাতে খুলনা সদর হাসপাতালে ৭০ শয্যার করোনা ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে রোগীর চাপ আরও বাড়লে ৮০ শয্যায় পরিণত করা হয়।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের ৮০ শয্যার করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডাঃ কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। এর আগের ৫ করোনা ইউনিটে কোনো রোগী ছিল না। গত ২৮ আগস্ট সকাল পর্যন্ত চারজন রোগী ভর্তি ছিল। সর্বশেষ ২৯ আগস্ট সেই চারজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ওই দিন থেকেই রোগী শূন্য রয়েছে হাসপাতাল। ফলে হাসপাতালে আগের মতোই সাধারণ রোগী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডাঃ শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১৫টি নমুনা পরীক্ষায় ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬ শতাংশ। আর মারা গেছেন দুই জন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত খুলনা জেলা ও মহানগর করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার। 
সভায় জানানো হয়, মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি পালন নিশ্চিতে খুলনায় মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। করোনা চিকিৎসায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০০ শয্যার করোনা ইউনিট ও শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিট চালু থাকবে।
সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ, সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, কেএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ আনোয়ার হোসেন, নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পদক এমডিএ বাবুল রানা, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ