খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

স্বস্তিদায়ক হোক ঈদযাত্রা

|
১২:১৩ এ.এম | ০২ এপ্রিল ২০২৪


ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রধান উৎসব পবিত্র ঈদ উল ফিতর আসন্ন। আর মাত্র ৮ বা ৯ দিনের মাথায় রমজানের রোজার শেষে ঈদের উৎসবে মাতবে দেশ। পুরো রমজান জুড়ে মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে সিয়াম সাধনা শেষ করতে যাচ্ছে। সেই সাথে ঈদ আনন্দের ঘনঘটায় মানুষ এখন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে শহর ছেড়ে নিজ গ্রামে যাওয়ার। শৈশবের স্মৃতির পোড়ামাটিতে পা দিতে কার না মন চায়! সেখানেই পাওয়া যায়, ঈদের আনন্দের এক পূর্ণ আমেজ। পাড়া, প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের মহামিলনের এক স্বর্গীয় উদ্যান হয়ে পড়ে গা-গেরাম। সেই গেরামে যাওয়ার তাগিদে উৎসবপ্রিয় বাঙালি এখন পূর্ণ প্রস্তুত। অপেক্ষা শুধু সময়ের। তবে এ আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে বিড়ম্বনার এক মহাকাল অতিক্রম করতে হয়, ঘরমুখো মানুষের। অতীতে আমরা লক্ষ্য করেছি, ঈদযাত্রায় যানজটের কারণে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। ভাঙাচোরা ও সরু সড়ক, সড়ক স¤প্রসারণের কাজ চলা এবং নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষকে এবারও যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে-এমন শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। বস্তুত ঈদের সময় ঘরমুখী মানুষকে যেসব কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তা চিহ্নিত। এসব বিষয়ে বছরের পর বছর সরকারের বিভিন্ন স্তরের নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে আলোচনা হয়, সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু সমাধান হয় খুব স্লথগতিতে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কমেনা। আমরা মনে করি কর্তৃপক্ষ আরো একটু দায়িত্বশীল হলে ঈদযাত্রার বিড়ম্বনা অনেকটা লাঘব হবে। কাজেই সমস্যাগুলোর সমাধানে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জানা যায়, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো সারা দেশে যানজটের বড় স্পটগুলো চিহ্নিত করেছে। লক্ষ্য করা গেছে, ঈদের আগে-পরে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে যেসব কর্তৃপক্ষ কাজ করে থাকে, ঈদের আগে তারা তৎপর হলেও ঈদের পরে তাদের তৎপরতায় কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এ সময় চালকদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় যাত্রীরাও চালককে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে উদ্বুদ্ধ করে। আবার গাড়ির মালিকের চাপের কারণেও চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এসব ক্ষেত্রে পরিবহণ মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সরকারকে রেল খাতেও গুরুত্ব বাড়াতে হবে। প্রতিবার ঈদযাত্রায় রেলে ঘরমুখী মানুষের বাঁধভাঙা ভিড় থাকে। কর্তৃপক্ষ আসনভিত্তিক টিকিট বিক্রি করে। এবার ঈদযাত্রায় ৩ থেকে ৯ এপ্রিল এবং ১৩ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেন চলবে। 
লঞ্চে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও আশা করা হচ্ছে শেষ মুহূর্তে ভিড় বাড়বে। সড়ক ও নৌ কোনো পথেই যাতে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে এবং প্রবেশমুখে অস্বাভাবিক যানজটের কারণে ঈদে ঘরমুখী মানুষকে অতিরিক্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এ সমস্যা রোধেও নিতে হবে পদক্ষেপ। এছাড়া মহাসড়কে যাতে সিএনজি অটোরিকশাসহ তিন চাকার গাড়ি চলতে না পারে সেই দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এসময়ে সড়ক দুর্ঘটনার অধিকাংশই ঘটছে এসব যানবাহনের কারণে। দেশের মানুষের আনন্দের এ যাত্রা কোনরকম বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ ছাড়া সম্পন্ন হবে-এমনটি প্রত্যাশা দেশবাসীর।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ