খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

বছর শেষে কমবে প্রবৃদ্ধি, বাড়বে মূল্যস্ফীতি

ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন : বিশ্বব্যাংক

খবর প্রতিবেদন |
১২:৫৭ এ.এম | ০৩ এপ্রিল ২০২৪


ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা দরকার। সম্পদের মান ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যাংক একীভূত করা উচিত বলে মনে করে সংস্থাটি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট বা বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল­ায়ে সেক। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয়ের অর্থনীতিবিদ রনজিত ঘোষ ও বার্নার্ড হ্যাভেন।
স¤প্রতি এক্সিম ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একীভূত করার এ প্রক্রিয়া বেশ দ্রুততার সঙ্গে করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন। গত মার্চ মাসে শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল কিছু ব্যাংক একীভূত করার পরিকল্পনা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে একীভূত প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত। একীভূত করা নিয়ে কী ধরনের আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা হয়, তা-ও দেখতে হবে। কারণ, ভালো ব্যাংক অতিরিক্ত দায় নেয় না।
ব্যাংক একীভূত করা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের আবদুল­ায়ে সেক বলেন, ব্যাংক খাতে যেকোনো সংস্কার কার্যক্রম কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ প্রয়োজন। যেমন ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে সম্পদের মান সঠিকভাবে নির্ধারণ করা উচিত। ব্যাংক একীভূত ও অধিগ্রহণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বানানো উচিত। ব্যাংক খাতে সংস্কারে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছে বিশ্বব্যাংক।
ব্যাংক একীভূত করা প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, সমস্যায় পড়া ব্যাংক (ট্রাবলড ব্যাংক) নিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংকের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে একীভূত প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত। একীভূত করা নিয়ে কী ধরনের আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা হয়, তা-ও দেখতে হবে। কারণ, ভালো ব্যাংক অতিরিক্ত দায় নেয় না।
বছর শেষে কমবে প্রবৃদ্ধি, বাড়বে মূল্যস্ফীতি: চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে। এছাড়া চলতি বছর মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আপডেট প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি কভিড-১৯ মহামারি থেকে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। কিন্তু মহামারি পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমাগত ব্যালেন্স অব পেমেন্টের ঘাটতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাহত হচ্ছে।  
বিশ্বব্যাংক দুই বছরের আপডেটে বলেছে, আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আবার বেড়ে ৫ দশমিক ৭ হবে। 
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনীতির সংস্কার খুব জরুরি। পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার একক বিনিময় হার চালু হলে দেশে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে। একক বিনিময় হারে মুদ্রাস্ফীতিও আরও কমবে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশের সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। যার ফলে বিনিয়োগে তারল্য সংকুচিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সুদের হার, আমদানি বিধিনিষেধ এবং জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বমুখী সংশোধনের ফলে খরচ বৃদ্ধির কারণে হ্রাস মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের সংস্কারের পরামর্শ দিয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে সংস্কার জরুরী। তবে ব্যাংক মার্জারের ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক থাকতে হবে।
এছাড়া চলতি অর্থবছর দেশে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে, ফলে বিনিয়োগের দরজা কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। খেলাপি ঋণ এখনও অনেক বেশি। রিপোর্টিং মান, সহনশীলতা ব্যবস্থা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রক প্রয়োগের কারণে ব্যাংকিং সেক্টরের পরিস্থিতি আরও চাপে রয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, বিনিময় হারের নমনীয়তা তৈরি হলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। কাঠামোগত সংস্কারগুলি অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে এবং মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে চাবিকাঠি হবে। 
সূত্র : প্রথম আলো, সমকাল অনলাইন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ