খুলনা | রবিবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০

দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

|
০১:১৯ এ.এম | ০৩ এপ্রিল ২০২৪


উদ্বিগ্ন হওয়ার মতোই একটি খবর। কিন্তু নানা কারণে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা দেশে এত বেড়েছে যে কোন খবরে আমরা উদ্বিগ্ন হব, আর কোনটায় হব না, সেটাও যেন বুঝে উঠতে পারি না অনেক সময়। 
গত শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায় শিরোনাম হয়েছে, ‘পরিবেশদূষণে বছরে মৃত্যু পৌনে ৩ লাখ’। অনেক দিন ধরেই এটা বলা হচ্ছে, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এর একটি বাংলাদেশ। বছর দশেক আগেই জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে প্রতিবছর যত মানুষের মৃত্যু হয়, এর ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশদূষণজনিত অসুখ-বিসুখের কারণে। অথচ সারা বিশ্বে এ ধরনের মৃত্যুর গড় মাত্র ১৬ শতাংশ।
পরিবেশদূষণে দেশে ২০১৯ সালে প্রায় পৌনে ৩ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছে বায়ুদূষণে। সার্বিকভাবে পরিবেশদূষণের কারণে ওই বছর দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। ‘দ্য বাংলাদেশ কান্ট্রি এনভায়রনমেন্ট অ্যানালাইসিস (সিইএ)’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রকাশ করা হয়।
সিইএ প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশদূষণ শিশুদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সিসা বিষক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে অপরিবর্তনীয় ক্ষতি করছে। গৃহস্থালিতে কঠিন জ্বালানির মাধ্যমে রান্না বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস এবং তা নারী ও শিশুদের বেশি ক্ষতি করছে। শিল্পের বর্জ্য এবং অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য ও অন্যান্য উৎস থেকে আসা অপরিশোধিত ময়লাযুক্ত পানির কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোর পানির গুণগত মানের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।
পরিবেশ যে দূষিত হচ্ছে, এর দায় মূলত আমাদেরই। আমাদের নাগরিক অসচেতনতা, দায়িত্বহীনতা এবং কান্ডজ্ঞানহীন আচরণে বৃক্ষনিধন চলে অবাধে, নদী হয় আবর্জনা ফেলার জায়গা। খাল-বিল হয় বেদখল ও ভরাট।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে জুুলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নদীর কারণে বাংলাদেশ ডাউনে অবস্থিত হওয়ায় প্লাস্টিকসহ নানা বর্জ্য ভেসে আসছে। এ নিয়েও কাজ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য পরিবেশের ঝুঁকি মোকাবিলা একই সঙ্গে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার। আমরা পৃথিবীর নানা দেশে দেখেছি, পরিবেশের ক্ষতি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলে তা টেকসই হতে পারে না।শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির গতিপথ টেকসই রাখতে এবং শহর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নতি করতে বাংলাদেশ কোনোভাবেই পরিবেশকে উপেক্ষা করতে পারবে না।
উপেক্ষা করা তো আমাদের এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। আবার এটাও ঠিক যে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থ ও দক্ষতা, দু’টোরই দরকার। সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে মানুষের সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপন নিশ্চিত করার যে দায়বদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে,  তা ভুলে গেলে চলবে না।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ