খুলনা | সোমবার | ২০ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সনদ বাণিজ্য : কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যানকে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৯ এ.এম | ২৪ এপ্রিল ২০২৪


সনদ-বাণিজ্যে জড়িত অভিযোগে স্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া মোঃ আলী আকবর খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে তাঁকে ডাকা হয়। তাঁর সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কেপায়েত উল­াহকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল।
ডিবির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বছরের পর বছর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জাল সনদ বিক্রি করা হচ্ছিল। এসব সনদের বিষয়ে চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানতেন কি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনেক ঘটনার সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ ছিল, প্রমাণ ছিল। তাঁরা নিজেরা যুক্ত থাকার কারণে, নাকি অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁরা জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি, সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মশিউর রহমান আরও বলেন, আসামিদের জবানবন্দিতে চেয়ারম্যানসহ অনেকের নাম এসেছে। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাঁদের ডাকা হয়। তাঁরা অনেক তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।
এর আগে গত শনিবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আলী আকবর খানের স্ত্রী সেহেলা পারভীনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোববার তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে স্ত্রীর সনদ বাণিজ্যের ঘটনায় সন্দেহের তালিকায় থাকা ও গ্রেফতারের পর আলী আকবর খানকে ওএসডি করা হয়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
জাল সনদ দেওয়ার ঘটনায় প্রথমে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট শামসুজ্জামান, বোর্ডের সাবেক কর্মচারী ও বর্তমানে শামসুজ্জামানের সনদ তৈরির নিজস্ব কারখানায় নিয়োজিত কম্পিউটারম্যান ফয়সাল হোসেন, গড়াই সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিচালক সানজিদা আক্তার ওরফে কলি, হিলফুল ফুজুল নামের কারিগরি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল সরদার গোলাম মোস্তফা ও যাত্রাবাড়ীর ঢাকা পলিটেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের পরিচালক মাকসুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন রিমান্ডে আছেন।
এই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জাল সনদ দেওয়ার এই চক্রে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সদ্য চেয়ারম্যান আলী আকবরের স্ত্রী সেহেলা পারভীনের নাম আসে। ডিবি সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে সেহেলা পারভীনের বিরুদ্ধে শামসুজ্জামানের সঙ্গে টাকা পয়সা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
৪ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান গ্রেফতার শামসুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলেন, সনদ বাণিজ্যের নানা প্রক্রিয়ায় তার কাছে গ্রাহক নিয়ে আসতেন দেশের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা কারিগরি স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক ও প্রিন্সিপালেরা। যেসব প্রধান শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল মধ্যস্থতা করে গ্রাহক নিয়ে আসতেন, তাদের নামের দীর্ঘ তালিকা এসেছে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। সনদ বাণিজ্যের বিষয়ে বোর্ডের ছোট-বড় সব কর্মকর্তা জানতেন বলেও উলে­খ করেন এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ