খুলনা | সোমবার | ২০ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ডিলার পলাতক, ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস ইউএনও’র

মোংলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ওজনে কম দেয়ায় ২০ গ্রাহকের চাল জব্দ

মোংলা প্রতিনিধি |
০১:৩৩ এ.এম | ২৫ এপ্রিল ২০২৪


মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্ধের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির (ন্যায্য মূল্যের) চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুনীর্তি মাধ্যমে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। নিজ ক্ষমতা বলে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় বরাদ্দের সিংহভাগ চালই সে কালো বাজারে বিক্রি করে আসছে বলেও অভিযোগ করে স্থানীয়রা। এতে সুবিধাবঞ্চিত হয়েছেন এলাকার ১২শ’ কার্ডধারী সুবিধাভোগী। উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার রাজিব মৃধার এই অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে হাতেনাতেই। ডিলার রাজিব চটের বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল থাকলেও তা খুলে প্লাস্টিকের বস্তায় কম দিয়েছে বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরের সুন্দরবন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মাঝে এই চাল বিতরণে অনিয়ম পাওয়ায় প্রায় ২০/২৫ জন গ্রাহকের চাল জব্দ করে। ডিলার রাজিব পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রায় ২/৩ বছর যাবত রাজিব নিজে ডিলারশীপ নিয়ে এলাকার ৬টি ওয়ার্ডের প্রায় এক হাজার দুইশ’ গ্রাহকের চাল বিতরণ করছে। কিন্তু সে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার ভাগ্নে হওয়ায় যেমন ইচ্ছে তেমন করছে। তার বিরুদ্ধে কথা বললে কার্ড বাতিলসহ বিভিন্ন রকম হুমকি দিতো বলেও অভিযোগ অসহায় এ কার্ডধারী গ্রাহকদের। সুন্দরবন ইউনিয়নের সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিশাত তামান্না। নিজ হাতে মেপে জব্দ করেন ওজনে কম দেওয়া ১৫/২০ বস্তা বিতরণ করা সরকারি চাল। তবে এর মধ্যেই ডিলার রাজিব মৃধা গা ঢাকা দেয়। ইউএনও এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, এখানে সরকারের দরিদ্রদের জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দের চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৩০কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ২৬/২৭ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। আর মানুষকে যে চটের বস্তায় চাল দেওয়ার কথা সেটাও ডিলার দেয়নি। তার পরিবর্তন করে অন্য প্লাস্টিক বস্তায় এই চাল দিয়েছে। চাল বিতরণে প্রতারণা, অনিয়ম এবং সরকারি চাল আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানায় নির্বাহী কর্মকর্তা।
এছাড়া সরকারি চাল বিতরণের সময় সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহিনুর রহমান প্রশিক্ষণে থাকায় তার প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না। এ ঘটনায় ডিলার পলাতক থাকলেও ওই এলাকায় তার ডিলারের মাধ্যমে চাল বিতারণ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
এদিন সুন্দরবন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বলেন, কয়েক বছর ধরেই ডিলার রাজিব মৃধা এই অনিয়ম করে আসছে। তাকে নিষেধ করা হলেও কারও কথা শোনেনা। বুধবার অনিয়ম করে ১২ জনসহ আরো কয়েকজন অসহায় গরীবের ৩০কেজি চালে ওজনে ২/৩ কেজি করে কম দিয়েছে। এই চাল আবার গোপনে অন্যত্র বিক্রি করে ডিলার রাজিব মৃধা।
ভুক্তভোগী ওয়াদুদু মৃধা, হাফিজুল মৃধা, ফাইজুল মৃধা, হাসিনা বেগম, সুকুমার মন্ডলসহ অনেকেই বলেন, ডিলার রাজিব মৃধা ৩০ কেজি সরকারি চালন বস্তার পরিবর্তে অন্য প্লাস্টিক বস্তায় ২৬/২৭ কেজি করে চাল দিয়েছে। ডিলার বাজিব মৃধার বিরুদ্ধে কথা বলতে কেউ সাহস পায়না। তাই সে চাল বিতরণে ওজনে কম দিচ্ছে কিন্তু প্রতিবাদ করলে এলাকার অসহায় মানুষের সরকারি কার্ড ও সকল সাহায্য থেকে বঞ্চিত করবে বলেও হুমকি দিতো এমন বহু অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। রাজিব মৃধা মোংলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেনের আপন ভাগ্নে। সেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিন সে এই অনিয়ম করে আসছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না আরো বলেন, ডিলারকে উপজেলা আসার জন্য বলা হয়েছে এবং তার ডিলারশীপের মাধ্যমে সুন্দরবন ইউনিয়নের ৪ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাল বিতরণ সাময়ীক বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসনের মাধ্যমে চাল বিতারণ চলবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ