খুলনা | সোমবার | ২০ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যু মানবপাচার বন্ধে ব্যবস্থা নিন

|
১২:০৭ এ.এম | ১১ মে ২০২৪


বাংলাদেশে এখনো বেকার তরুণ ও যুবকের সংখ্যা অনেক। আর এই সুযোগই কাজে লাগায় দেশি-বিদেশি মানব পাচারকারী চক্র। তারা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবছর শত শত তরুণ-যুবকের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। হাতিয়ে নেয় বিপুল পরিমাণ অর্থ।
পাচারের শিকার ব্যক্তিদের বিদেশে গিয়ে যৌন নিপীড়ন, দাসত্ব বরণসহ নানা রকম অমানবিক পেশায় নিয়োজিত হতে হচ্ছে। অনেকের মৃত্যুও হয়। আবার অনেককে জিম্মি বানিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করার ঘটনাও ঘটে। কিছুটা উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় প্রতিবছর যে শত শত তরুণ অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি জমান, তাঁকে কেউ কেউ প্রচণ্ড দুর্ভোগ মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেও অনেকেই তা পারেন না। অনেককেই অত্যন্ত করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়।
বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার উলে­খযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গেছে। বেড়েছে করুণ মৃত্যুর ঘটনাও। গত মঙ্গলবার রাজধানীতে অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করে আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ জানান, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাত্রা করতে গিয়ে মারা যাওয়া অভিবাসীদের ১২ শতাংশই বাংলাদেশি।
এর আগেও ভূমধ্যসাগরে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু দুর্ঘটনায় মৃত কিংবা উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক বাংলাদেশির উপস্থিতি ছিল। অতীতেও সাগরপথে বিদেশে যেতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশির সলিলসমাধি ঘটেছে। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে শত শত বাংলাদেশির গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি লিবিয়া থেকে একটি নৌকায় ইতালির উদ্দেশে যাওয়ার পথে তিউনিশিয়া উপকূলে ডুবে মারা যান বাংলাদেশের আট নাগরিক।
ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনেও দেখা যায়, পাচারের উৎস দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে শীর্ষস্থানে। অনেক বাংলাদেশিকে লিবিয়া বা অন্য কোনো দেশে নিয়ে জিম্মি করে অর্থ আদায় করার অনেক ঘটনাও খবরের কাগজে এসেছে। তার পরও এত বাংলাদেশি কেন এমন বিপজ্জনক পথে পা বাড়াচ্ছেন? সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রগুলো বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে তাদের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। তারা লোভনীয় চাকরি বা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের প্রলুব্ধ করে এবং বিদেশে পাঠানোর নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। বাংলাদেশের তরুণরা এসব বিষয়ে অসচেতন বলেই পাচারকারীদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। ভূমধ্যসাগরের সা¤প্রতিক সময়ের ঘটনাটি তারই প্রমাণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাচার রোধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ মানবপাচারের বড় উৎস হয়ে উঠুক এটি আমাদের কাম্য নয়, কিন্তু বাস্তবতা সেদিকেই যাচ্ছে। দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে থাকা পাচারকারীদের সব নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোর তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে। আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ২০১২ সালে প্রণীত আইনে মানবপাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থাকলেও এই আইনে শাস্তির দৃষ্টান্ত খুবই কম। এ ক্ষেত্রে দ্রুত বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে এবং বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ স¤প্রসারিত করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ