খুলনা | সোমবার | ২০ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা কি অসম্ভব?

|
১২:১৪ এ.এম | ১৫ মে ২০২৪

 
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অনেক পদক্ষেপ নেওয়ার পরও এর ব্যাপকতা কমছে না। বস্তুত দেশের সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হলেও সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই কমছে না দুর্ঘটনা। স¤প্রতি দুর্ঘটনা কমাতে সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে সরকার যে গাইডলাইন দিয়েছে, তা কতটা সুফল বয়ে আনবে, এ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বহু বিশ্লেষক। আমাদের দেশের বাস্তবতায় এ গাইডলাইন কতটা যৌক্তিক, এ প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল-এই ১০ বছরে সড়কে ৫৬ হাজার ৩৬০টি দুর্ঘটনায় ৭৮ হাজার ১০৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখের বেশি মানুষ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির মূল কারণ বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, সড়কের নির্মাণত্র“টি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন অবাধে চলাচলের সুযোগ, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, যানবাহন চালক ও মালিকের বেপরোয়া মনোভাব, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার ইত্যাদি। সংগঠনটি এমন ১০১টি কারণ উলে­খ করে সমস্যাগুলোর সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অন্যদিকে বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, বিদায়ি এপ্রিলে দেশে ৬৭২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৬৭৯ জন নিহত এবং ৯৩৪ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির মতে, এপ্রিলের সড়ক দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ মানবসম্পদের ক্ষতি হয়েছে, এর আর্থিক মূল্য ২ হাজার ১১৯ কোটি ১১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ইন্টারন্যাশনাল রোড এ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম পদ্ধতিতে আর্থিক ক্ষতির এ হিসাব বের করা হয়েছে। বস্তুত সড়ক দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষয়ক্ষতি এত বেশি যে, তা সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। সংগঠনটির মতে, অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো দরকার এবং দক্ষ চালক তৈরির জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বস্তুত অতিরিক্ত গতি এবং চালকের বেপরোয়া মনোভাবের জন্যই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কাজেই দক্ষ চালক তৈরির পাশাপাশি তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দিতে হবে। ক্লান্ত-শ্রান্ত চালক গাড়ি চালালে স্বভাবতই তাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরিবহন শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নেও নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত, কী করণীয়, তাও বহুল আলোচিত। সড়ককে নিরাপদ করতে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে নানা পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদান করা হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে, দেশে প্রতিদিন ঘটা দুর্ঘটনাগুলোই এর প্রমাণ। দুর্ঘটনা রোধে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাসহ সড়ক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে লোকবল কম, এ তথ্য আমরা জানি। তবে দুর্নীতি রোধে কর্তৃপক্ষ কঠোর হলে কম লোকবল দিয়েও বিভিন্ন অভিযানে কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া সম্ভব। সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কেন সেসবের সুফল মিলছে না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার। এক্ষেত্রে সরিষার ভেতর ভূত থাকলে তা তাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ