খুলনা | শুক্রবার | ২১ জুন ২০২৪ | ৭ আষাঢ় ১৪৩১

শেয়ারবাজারে সব ধরণের কারসাজি বন্ধ করতে হবে

|
১২:০২ এ.এম | ০৮ জুন ২০২৪


সূচকের ক্রমাগত পতনের পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজারের ক্ষুদে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যখন আতঙ্ক বিরাজ করছে, সে সময় গণমাধ্যমে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ সংক্রান্ত এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের এক প্রভাশালী সদস্য, যিনি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও, তিনি বিধি লঙ্ঘন করে শেয়ার বেচাকেনা করেছেন। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগতভাবে বেশি মাত্রায় লাভবান হওয়ার জন্য তিনি এক্ষেত্রে কারসাজিতেও সহায়তা করেছেন। ডিএসই’র এই পরিচালকের তিনটি বিও এ্যাকাউন্টে ১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
উলে­খ্য, ডিএসই’র স্বতন্ত্র পরিচালকদের শেয়ার লেনদেন বেআইনি এবং অনৈতিকও বটে। কারণ তারা ভেতরের খবর তথা আগাম তথ্য জানেন। এ কারণে যদি কারও বিও এ্যাকাউন্ট থেকেও থাকে, স্টক এক্সচেঞ্জে যোগদানের পর তা নিষ্ক্রিয় করে রাখতে হয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএসই’র এই পরিচালক এ কাজের মাধ্যমে তিনটি অপরাধ করেছেন। প্রথমত, তিনি স্টক এক্সচেঞ্জের পর্ষদে থেকে বেআইনি ও অনৈতিকভাবে শেয়ার লেনদেন করে সুবিধা নিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, কারসাজির কারণে যেসব কোম্পানিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সেসবের অধিকাংশের শেয়ার লেনদেন করে সুবিধা নিয়েছেন। তৃতীয়ত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়তায় পর্ষদ ভেঙে যেসব কোম্পানি দখল করা হয়েছে, এর সবকটি থেকেই তিনি আগাম তথ্য জেনে শেয়ার লেনদেন করে লাভবান হয়েছেন।
ডিএসই’র একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা মনে করি, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তার শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ এ ধরণের কারসাজি ও অনিয়মের কারণেই লাখ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং শেয়ারবাজার আজ এক সংকটজনক ও আস্থাহীনতার জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেল এক বছর ধরে শেয়ারবাজারে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসেনি। বরং শেয়ারবাজার থেকে টাকা বের হয়ে গেছে। ফলে বাজারে শেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। বাজারের এই নেতিবাচক অবস্থার কারণ হিসাবে একেক সময় একেকরকম অজুহাত দেখানো হয়েছে। কখনো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির নেতিবাচক অবস্থা, কখনো বিশ্ব অর্থনীতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং সর্বশেষ এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের শঙ্কা।
অথচ যুদ্ধের মুখোমুখি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের ওই দুই দেশের শেয়ারবাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বৈশ্বিক পুঁজিবাজারেও নেই কোনো বড় ধরনের সংকট। আমরা মনে করি, প্রকৃতপক্ষে নানামুখী কারসাজির কারণেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকট কাটাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কারসাজির মাধ্যমে কেউ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করলে আইন অনুসারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) তৎপর হতে হবে।
শেয়ারবাজারে কোনো সিন্ডিকেট যাতে গজিয়ে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারেও বিএসইসিকে নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে বিএসইসি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ