খুলনা | সোমবার | ২২ জুলাই ২০২৪ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

ঈদকেন্দ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে

|
১২:০৪ এ.এম | ১৩ জুন ২০২৪


ঈদ সামনে রেখে অস্ত্রবাজ, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সামনে পবিত্র ঈদুল আযহা। এ সময় যদি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়, তাহলে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ঈদবাজারমুখো মানুষ নিরাপত্তাহীন বোধ করবে, এটাই স্বাভাবিক। 
ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আযহায়ও লম্বা ছুটি থাকবে। এই ছুটিতে অনেক মানুষ নিজ নিজ এলাকায় যাবে। স্বাভাবিকভাবেই আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে ঈদুল আযহা উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা, সড়ক, রেলপথ ও নৌপথের নিরাপত্তা এবং জনগণের নিরাপদ যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সভায় আইজিপি জনিয়েছেন, কোরবানির পশু গন্তব্যে পৌঁছাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  একদিকে মানুষ রাজধানী বা বড় শহর ছাড়বে, অন্যদিকে কোরবানির পশু আসবে বাইরে থেকে।
ঈদুল আযহায় কোরবানির পশু পরিবহন ও পশুর হাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সন্ধ্যার পরপরই ডাকাত আতঙ্ক শুরু হয়। ডাকাতদলের সদস্যরা নির্জন স্থানে সড়কের ওপর গাছ ফেলে যানবাহন আটকে যাত্রীদের কাছ থেকে এবং পথচারীদের মারধর করে হাতিয়ে নিচ্ছে নগদ টাকাসহ মালপত্র। ডাকাতদলের কোনো সদস্যকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ঈদের বাজারে আরেক আতঙ্ক জাল টাকা। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাল টাকার কারবারিরা তৎপর হয়ে ওঠে। প্রতিবছর উলে­খযোগ্যসংখ্যক জাল টাকার কারবারি পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও থেমে নেই জাল টাকার ব্যবসা। সারা বছরই জাল টাকার ব্যবসা চলে, কিন্তু ঈদের সময় তা অনেক বেড়ে যায়। মূলত রাজধানী ঢাকা এই জাল টাকার কারবারিদের কেন্দ্র হলেও তাদের নেটওয়ার্ক সারা দেশে বিস্তৃত।
গত শনিবার রাজধানীর দু’টি বাসায় অভিযান চালিয়ে সোয়া কোটি টাকার জাল নোটসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। এ ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল নোট তৈরির কাগজসহ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদুল আযহাকে টার্গেট করে চক্রটি বিপুল পরিমাণ জাল নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তথ্য পেয়েছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সারা দেশে অন্তত ১১টি জাল টাকার অপরাধীচক্র সক্রিয় রয়েছে।
ঈদের আগে জাল টাকা ছড়িয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গরু ব্যবসায়ীরা। কারণ গরুর ব্যবসায়ীরা যা দাম বলেন, সেই দামেই গরু কিনে নেওয়া হয় জাল নোট দিয়ে। সেখানে জাল টাকা চেক করার মেশিনও বেশির ভাগ গ্রামীণ কোরবানির হাটে নেই। এদিকে দেশে জাল টাকার মামলার বিচারে দ্রুত বিচার আদালত নেই। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চলে বিচারকাজ। আসামিরা জামিন পেয়ে আবারও একই কাজে জড়িয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় ঈদকেন্দ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ