খুলনা | বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৮ মাঘ ১৪৩২

করোনা কালীন জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুণ

|
১২:০৮ এ.এম | ১৭ জুন ২০২১

করোনার আগ্রাসন যখন সারা বাংলাদেশে তখন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ধুঁকছে ভয়াবহ দরিদ্রতার কশাঘাতে। সর্বগ্রাসী করোনা সীমিত করে দিয়েছে মানুষের আয়-রোজগারের ক্ষেত্র। অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তা তাই শক্ত বাসা গেড়েছে সবার মনে। প্রথমত, সহায়-সম্বলহীন মানুষগুলো ক্ষুধা ও অভাবের তাড়নায় করোনা ভাইরাসের মরণ ছোবলের ভয়াবহতা উপেক্ষা করে এদিক-ওদিক ছুটছে কাজ বা ত্রাণ পাওয়ার নেশায়। জীবিকার প্রয়োজনে হন্যে হয়ে ছুটছে মানুষ অনিশ্চয়তার রাজপথে। কাজের সন্ধানে বের হলেও কাজ যে বড় দু®প্রাপ্য। আর ত্রাণ সে তো সোনার হরিণ। অনেক আগে তালিকা হলেও এক কেজি চালও জোটেনি অনেকের কপালে। এসব দারিদ্র পীড়িত মানুষের পরিবারে আবার সদস্য সংখ্যাও অনেক বেশি। এরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের কথা। অথচ এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যানদের কাছে গেলে ত্রাণ নেই, সরকারি চাল-ডাল শেষ হয়ে গেছে এমন কথা তাদের শুনতে হয়। কোথাও ঋণ বা ধারে টাকা, চাল পাওয়াও যাচ্ছে না। কোন এনজিও, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা তাদের দিকে তাকাচ্ছেই না। স্বল্প যা দিচ্ছে তাও লোক দেখানো। দারিদ্র পীড়িত এসব মানুষ পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে সবকিছু থেকে। ক্ষুধার কাছে লকডাউন আসলে পরাজিত। পেটে ভাত না থাকলে কিসের লকডাউন আর কিসের সচেতনতা? চরম বাস্তবতার মুখোমুখি আজ দুর্দশায় পতিত মানুষগুলো। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এরা করোনার আক্রমণে নয়, ক্ষুধার তাড়নায় মারা যাবে। দ্বিতীয়ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষরাও অভাবে অসহায়। বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, সিএনজি, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, বাস-ট্রাক ইত্যাদি চালিয়ে যারা জীবিকা নির্বাহ করত তারা আজ প্রায় বেকার। বড় অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবার প্রধান। তা ছাড়া বিভিন্ন ঋণ, কিস্তি, সুদের টাকা এসবের জ্বালায় অস্তিত্বের সঙ্কটে সবাই। এরা না পারে কইতে না পারে সইতে এমন অবস্থা। কারও কাছে ত্রাণের জন্য যাওয়াটা এ শ্রেণির মানুষদের জন্য চরম লজ্জার। বর্তমান সময়ে কোন এনজিও, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এসব মানুষের পাশে তেমন দেখা যায় না। নামে মাত্র ত্রাণ সামগ্রী আরও হতাশ করছে মানুষকে। সরকারের প্রতি অনুরোধ থাকবে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুণ। কেননা সরকার যে সাহয্য বা সহায়তা দিচ্ছে কিছু অসাধু মানুষের কারণে তা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রত্যাশা থাকবে সরকার প্রতিটি এলাকায় দারিদ্রের কশাঘাতে নিমজ্জিত দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের মাঝে নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ