খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জুলাই ২০২৪ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

সিলেটে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি

খবর প্রতিবেদন |
০৪:৩১ পি.এম | ২০ জুন ২০২৪


সিলেটে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। আজ বৃহস্পতিবার জেলা ও নগরে পানি কিছুটা কমেছে। সুরমা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত না হলে খুব শিগগিরই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে (গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। সেখানে এর আগের দিন ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। আর সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সিলেটের আকাশে কিছুটা মেঘ আছে। বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে আকাশের অবস্থা ভালো আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুটি নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সুরমা নদীর কানাইঘাট ও সিলেট পয়েন্টে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পানি কিছুটা কম প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় যেখানে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে, সেখানে বৃহস্পতিবার দুপুরে কানাইঘাট পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আর কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০০ সেন্টিমিটার ও শেরপুর পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সেখানে যথাক্রমে ৮৫ সেন্টিমিটার, ১০২ সেন্টিমিটার ও ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আর নতুন করে কুশিয়ারার শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে, যেখানে বুধবার সন্ধ্যায় বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল।

এদিকে সারি-গোয়াইনের গোয়াইনঘাট পয়েন্টে বুধবার সন্ধ্যায় বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে সুরমা নদীর পানি অনেকটা কমেছে আর কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়লেও ওটা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। আমাদের নদ-নদীর পানি নির্ভর করছে চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিপাতের ওপর। আশা করা যায়, সেখানে আর বৃষ্টিপাত না হলে আমাদের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। গতকাল থেকে আজ পানি অনেকটা কমেছে।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরের ২৩টি ওয়ার্ডের ৫০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। আর আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে ২ হাজার ৫০০ জন। আর জেলার ১৩টি উপজেলার ১০৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৫৪৮টি গ্রামের ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জন বন্যাকবলিত হয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৪৯ জন আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র।

এর আগে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির দেখা দেয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ