খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জুলাই ২০২৪ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

বজ্রপাতে প্রাণ গেল কয়রা, পাইকগাছা বটিয়াঘাটা ও চরফ্যাশনে ৫ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা ও পাইকগাছা প্রতিনিধি |
০১:১১ এ.এম | ২১ জুন ২০২৪


বজ্রপাতে খুলনার কয়রার এক শিশুসহ দু’জন, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও ভোলায় একজন করে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। বৃহস্পতিবার সকাল ও দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ও খুলনার পাইকগাছার ডেউবুনিয়ায় এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ এলাকার কড়িয়া গ্রাম ও ভোলার চরফ্যাশনে পৃথক এই ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা : জেলার শ্যামনগরে বজ্রপাতে এক শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের গাগড়ামারী- নেবুবুনিয়া এলাকায় একটি মৎস্য ঘেরের  বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মারা যাওয়া দু’জন হলেন খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ঘড়িলাল গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মাদ গাজীর ছেলে এনায়েত হোসেন (৩৭) এবং একই গ্রামের বাসিন্দা আল আমিনের ছেলে নাজমুল ইসলাম (১১)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত নাজমুলের নানা মুছা গাজী। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়পদ্মপুকুর এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন তারা। সেখান থেকে চারজন মোটরসাইকেল যোগে গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী খেয়াঘাট হয়ে কয়রার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে দুপুর ১টার দিকে গাবুরার গাগড়ামারী ও নেবুবুনিয়া ৩নং এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় তারা একটি মৎস্য ঘেরের বাসায় আশ্রয় নিলে আকস্মিক বজ্রপাতে এনায়েত ও নাজমুলের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এ ছাড়া নিহত নাজমুলের নানা মুছা গাজীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা তাঁদের লাশ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে গেছে। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম বলেন, বজ্রপাতে শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় নিহত শিশুটির নানা মুছা গাজী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 
পাইকগাছা : বজ্রপাতে এক ঘের কর্মচারী নিহত হয়েছে। নিহত শ্রীকান্ত মন্ডল (২৫) উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের গেওয়া বুনিয়া গ্রামের পতীত মন্ডলের ছেলে। দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত চলাকালে ঘের কর্মচারী শ্রীকান্ত চিংড়ি ঘেরের বাসায় আশ্রয় নেয়। এ সময় ঘেরের বাসায় বজ্রপাত হলে শ্রীকান্ত মারা যায়।
বটিয়াঘাটায় নিহতের নাম আল মামুন। তার বয়স ১৭ বছর। সে স্থানীয় মনি চৌকিদারের ছেলে।
পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রিপন কুমার মণ্ড ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শ্রীকান্ত মাছের ঘেরের কর্মচারী ছিল। বিকেলে বৃষ্টিপাতের সময় ঘেরের একটি ঝুপড়ি ঘরে অবস্থান করছিল। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলের সে মারা যায়। তার মরা দেহ বাড়িতে আনা হয়েছে।
অপর দিকে কয়রা দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছের আলি মোড়ল ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, ঈদ উপলক্ষে শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়পদ্মপুকুর এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন তারা। সেখান থেকে চারজন মোটরসাইকেল যোগে গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী খেয়াঘাট হয়ে কয়রার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে দুপুর ১টার দিকে গাবুরার গাগড়ামারী ও নেবুবুনিয়া ৩নং এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় তারা একটি মৎস্য ঘেরের বাসায় আশ্রয় নিলে বজ্রপাতে এনায়েত ও নাজমুল ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এ ছাড়া নিহত নাজমুলের নানা মুছা গাজীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনেরা তাঁদের লাশ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে গেছে।
ভোলা: জেলার চরফ্যাশনে বজ্রপাতে মোঃ আক্তার তালুকদার (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়ন ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আক্তার তালুকদার একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা।  
স্বজন ও থানা পুলিশ জানান, সকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে গরুর ঘাস কাটতে মাঠে যান কৃষক আক্তার। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
বাগেরহাট: জেলাতে পৃথক জায়গায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। বুধবার  দুপুরের দিকে জেলা সদর উপজেলা ডেমা ইউনিয়নে পিসি ডেমা ও হেদায়েতপুর গ্রামে পৃথক পৃথক বজ্রপাতে এ ঘটনা ঘটে। একই সময়ে ওই এলাকায় একটি মহিষ ও চারটি গরু মারা যায়।  
বজ্রপাতে মৃতরা হলেন পিসি ডেমা গ্রামের মৃত হক আমিনের ছেলে সাইদুর রহমান (২৭) ও ডেমা ইউনিয়নের হেদায়েতপুর গ্রামের শেখ কাউসারের ছেলে সেলিম শেখ (৫৫)। আহত যুবকের নাম উজ্জ্বল। তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় উজ্জ্বল নামের এক যুবক আহত হয়। বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।
পৃথক জায়গায় বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, আহত উজ্জ্বলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।  

প্রিন্ট

আরও সংবাদ