খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জুলাই ২০২৪ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পুরোপরি না জেনেই করা হয় সিটিস্ক্যান

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযান : ল্যাবএইডে দিনে ৭০টির বেশি এন্ডোসকপি, মানা হচ্ছে না নির্দেশনা

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৬ এ.এম | ২১ জুন ২০২৪


রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশনা। রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পুরোপরি না জেনেই করা হয় সিটিস্কান। চিকিৎসা ব্যয় নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। হাসপাতালটিতে দিনে ৭০টির বেশি এন্ডোসকপি করানো হয়েছে। এই এন্ডোসকপি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাবের (স্বপ্নীল) নেতৃত্বে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। পরিদর্শন টিমে নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডাঃ সামন্ত লাল সেন। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তদের টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডাঃ মঈনুল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 
ডাঃ মঈনুল আহসান বলেন, ৭০টি এন্ডোসকপি করানোর রেকর্ডও মিলেছে এই হাসপাতালে। ল্যাবএইডের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে এক দিনে ৭১টি এন্ডোসকপি করা হয়েছে। এসব এন্ডোসকপি মামুন আল মাহতাবের (স্বপ্নীল) নেতৃত্বে করা হয়েছে। এমন অবস্থা প্রায় দিন ঘটেছে। এছাড়া রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পুরোপরি না জেনেই করা হয় সিটিস্ক্যান।
এ ব্যাপারে কতখানি প্রটোকল মানা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খোদ মন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সব হাসপাতালকে প্রটোকল মেনে চিকিৎসা করাতে হবে। তা না হলে এসব বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও এমন অভিযান চলবে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় হাসপাতালের এন্ডোসকপি কক্ষ পরিদর্শন করেন। আগে কোনো কোনো চিকিৎসক একদিনে বেশি সংখ্যক এন্ডোসকপি করলেও পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূমিকার কারণে বর্তমানে সেটা ১০ থেকে ১৫ তে নেমে এসেছে। 
অভিযানে নিজেদের ভুল মেনে নেয় ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ। ল্যাবএইড গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডাঃ এ এম শামীম বলেন, ‘আমাদের কিছু বিষয়ে ত্র“টি ছিল। সামনে এমনটি আর হবে না।’
স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিদর্শন: ল্যাবএইডের পরে স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়েও মিলে অনেকটা একই চিত্র। চিকিৎসা ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলে অধিদপ্তরের টিম। মন্ত্রী সামন্ত লাল সেনকে সামনে পেয়ে এক রোগীর স্বজন এ নিয়ে অভিযোগ তোলেন। 
বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর নামিদামি হাসপাতাল ঘুরেও কাঙ্খিত মানের চেয়ে রোগীর সংখ্যার প্রতি গুরুত্বের চিত্রই সামনে এসেছে। সামনে এসেছে অবহেলার দিকটাও।
এন্ডোসকপি, কোলোনোসকপির মতো পরীক্ষা করতেও রাজধানীর নামিদামি হাসপাতালে প্রায়ই ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। এমনকি নজির রয়েছে মৃত্যুর। এসব অভিযোগ আমলে নেয়নি অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেশির ভাগ হাসপাতালে ঠিকঠাক প্রটোকল না মেনেই করা হয় এসব পরীক্ষা নিরীক্ষা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ