খুলনা | সোমবার | ২২ জুলাই ২০২৪ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

পিএসসির প্রশ্নফাঁসের দায় স্বীকার করে ৭ জনের জবানবন্দি, ১০ জন কারাগারে

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩২ পি.এম | ০৯ জুলাই ২০২৪


প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) দুজন উপপরিচালক ও সাবেক গাড়ি চালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ গ্রেফতার ১৭ জনের মধ্যে সাতজন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া অন্য আসামিরা হলেন—পিএসসির ডেসপাস রাইটার খলিলুর রহমান, অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেল, ব্যবসায়ী সহোদর সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন।

পিএসসির প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ গ্রেফতার ১৭ আসামিকে আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

এসময় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করে সিআইডি। পরে বেলা ৩টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন ৭ আসামি।

অন্যদিকে আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামসহ বাকি ১০ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

এর আগে সোমবার পিএসসির দুই উপপরিচালক মো. আবু জাফর ও জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবিরসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক ভাইরাল হওয়া সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ছেলে সোহানুর রহমান সিয়ামও রয়েছেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে।

গ্রেফতার অন্য অভিযুক্তরা হলেন— পিএসসির ডেসপ্যাচ রাইটার খলিলুর রহমান, অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম, অডিটর প্রিয়নাথ রায়, সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য নোমান সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের রাজনীতি করা ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেল, ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম, ঢাকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসের মামুনুর রশীদ, ব্যবসায়ী দুই ভাই সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন, বেকার যুবক লিটন সরকার, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তাকর্মী শাহাদাত হোসেন ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনিশিয়ান নিয়ামুন হাসান।

পিএসসির সাবেক সহকারী পরিচালকসহ ১৪ জন পলাতক
এদিকে পিএসসির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়সহ ১৪ জন পলাতক রয়েছে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে।

পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া, দীপক বনিক, খোরশেদ আলম খোকন, কাজী মো সুমন, এ কে এম গোলাম পারভেজ, মেহেদী হাসান খান, গোলাম হামিদুর রহমান, মুহা. মিজানুর রহমান, আতিকুল ইসলাম, এটিএম মোস্তফা, মাহফুজ কালু, আসলাম ও কৌশিক দেবনাথ।

গত সোমবার পিএসসির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় পুলিশ এ মামলা করে। এর আগে রবিবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। মামলায় আরও ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘বিসিএস প্রিলি–লিখিতসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস’ শিরোনামে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর গত রবিবার এক প্রতিবেদন প্রচার করে। প্রতিবেদনে পিএসসির ক্যাডার ও নন–ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়।

সর্বশেষ গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত রেলওয়ের ৫১৬টি পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একটি চক্র এক যুগের বেশি সময় ধরে বিসিএসসহ ৩০টি ক্যাডার ও নন–ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।

বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আলোচনায় আসার পর পিএসসির দুই উপপরিচালক ও গাড়ি চালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ