খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জুলাই ২০২৪ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

কুড়িগ্রামে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৫ পি.এম | ১১ জুলাই ২০২৪


কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের তিনটি পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার বেশ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরপর ধরলা ও দুধকুমারের পানিও বাড়তে শুরু করেছে। ফলে জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করে। বন্যায় জেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ৯ উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়নের প্রায় সোয়া দুই লাখেরও বেশি মানুষ।

দ্বিতীয় ধাপের বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ কারণে উঁচু স্থান থেকে চরের ও দ্বীপ চরের বানভাসিরা এখনও ঘরে ফিরেনি। এসব চরের বাসিন্দাদের অনেকেই গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পানিবন্দী। বাড়ি-ঘরে পানি থাকায় লোকজন নৌকায় বসবাস করছেন। কলা গাছের ভেলাই হচ্ছে এসব মানুষের অধিকাংশের সহায় সম্বল। রান্না করা ও খাদ্যাভাবে এসব মানুষের দিন কাটছে। সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছালেও বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

অনেকেই ত্রাণ সহায়তা পেলেও রান্না করার সরঞ্জাম না থাকায় শুকনো খাবার খেয়ে কোনো মতে দিন পার করছেন। কিন্তু পানিতে কতক্ষণ থাকবেন। পাশাপাশি মানুষগুলো বিপাকে পড়েছেন তাদের গবাদি পশু নিয়ে। পানি বেশি থাকায় টিউবওয়েল ও পায়খানা ডুবে গেছে। ফলে পয়ঃনিষ্কাশন করতে মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী ও শিশু-বৃদ্ধদের খুবই সংকটে দিন কাটছে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া চরগুজিমারীর বাসিন্দা সামেনা বেওয়া জানান, আমরা বুড়া মানুষ। পায়খানা পেসাব করতে খুব অসুবিধে হচ্ছে। পানি বেশি থাকায় কলার গাছের ভুড়াত (ভেলা) থাকপার নাগচি।

অন্যদিকে, সদরের চর ভগবতীপুরের বাসিন্দা এরশাদ মিয়া বলেন, গরু-ছাগল নিয়া খুবই ভেজালে পড়ছি। এমনিতে নেই খাওন-দাওন তার ওপর গবাদি পশুর সমস্যা।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, বন্যা মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত ৫৪২ মেট্রিক টন চাল, ৩২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ২৩ হাজার ১২০ প্যাকেট শুকনো খাবার ৯ উপজেলায় বিতরণ চলমান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ