খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৯ মাঘ ১৪৩২

দোরগোড়ায় নির্বাচন : অগ্রাধিকারের তালিকায় নিরাপত্তা

|
১২:১১ এ.এম | ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


১২ ফেব্র“য়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোর অন্যতম হলো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সরকার ও নির্বাচন কমিশন মনে করছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন একই অবস্থায় থাকবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার কারণ রয়েছে বটে। 
গোয়েন্দা সূত্রমতে, বিশেষত কয়েকটি জেলায়-গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গাজীপুর-আওয়ামী লীগ ভোট বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে। ওদিকে যেসব সংসদীয় আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন, সেগুলোয়ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। আবার লক্ষ্য করা হচ্ছে, কয়েকটি জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদ্বয়ের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ বৈরিতা চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এসব হুমকির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে কয়েকটি সংগঠন বা গোষ্ঠীর দাবি-দাওয়াভিত্তিক আন্দোলনের শঙ্কা। এক কথায় বলতে গেলে ১২ ফেব্র“য়ারির নির্বাচনের আগে, ভোটগ্রহণের দিন এবং পরবর্তী কয়েকদিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যে কোনো সময় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা স্বয়ং বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল। 
তবে আশঙ্কার বিপরীতে নির্বাচন কমিশন ও সরকার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নিরাপত্তা কৌশল ঠিক করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে জানতে পারা গেছে। ভোটকেন্দ্রগুলোও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। তবে আমরা মনে করি, নির্বাচনে পরিবেশ কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা মূলত নির্ভর করবে নির্বাচকমণ্ডলী অর্থাৎ ভোটারদের ওপর। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, ভোটার শ্রেণি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে যার যার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কোনো অপশক্তি যদি নির্বাচনে গোলোযোগ তৈরির অপচেষ্টা করে, তাহলে সম্মিলিতভাবে সেই শক্তিকে প্রতিরোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সাধারণ মানুষের সতর্ক প্রতিরোধের মুখে কোনো অপশক্তিই দাঁড়াতে পারবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও তাদের পারদর্শিতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখাতে হবে। একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা। চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় মোতায়েন করতে হবে বাড়তি লোকবল। 
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এমন খবরও আছে, নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়াসহ নানা ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং হতে পারে। ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দিকটায় পূর্ণ নজর দেবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। মোট কথা, একদিকে নির্বাচনের পরিবেশ হতে হবে শান্তিপূর্ণ, অন্যদিকে ভোটগ্রহণে যাতে কোনো অনিয়ম না ঘটে, সেদিকেও যথেষ্ট সতর্কতা জারি রাখতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে থাকা সব পক্ষকে অনুধাবন করতে হবে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে না পারলে জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মা শান্তি পাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা দেশ শাসনের সুযোগ তৈরি করা। এই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের মাহাত্ম্য ব্যাপকভাবে ক্ষুণœ হবে।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ