খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৯ মাঘ ১৪৩২

বেড়েছে কদর, নারী ভোটাররা বদলে দিতে পারেন হিসাব : বিভাগে মোট ভোটার ১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭২২ জন, নারী ভোটার ৭০ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৫

খুলনার ৬টি সহ বিভাগে ৩৬ আসনে ২০৩ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:১০ এ.এম | ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ফল পাল্টে দিতে পারেন নারী ভোটাররা। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৩৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করা ২০৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ ১২ ফেব্র“য়ারি।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশির ভাগ আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্ব›িদ্বতা।
বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনে ১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭২২ জন ভোটারের মধ্যে ৭০ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৫ জনই নারী। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার ৭ হাজার ৭৬২ জন বেশি। ফলে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ভর করছে এই বিশাল নারী ভোটারদের ওপরই। এ কারণে এবার নারী ভোটারদের কদর বেড়েছে।
নারী ভোটারদের টানতে বিএনপি ৫০ লাখ পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান ও নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া, নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ প্রতি জেলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্র“তি দিচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও নারীদের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্র“তি দিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে নারী ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন।
ফলে ভোটের বিষয়ে অধিকাংশ নারী ভোটার প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও প্রতিশ্র“তির দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যুটি নারীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রতিটি পরিবারে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনাও চলছে। জাতীয় ইস্যু ছাড়াও স্থানীয় সমস্যা, যেমন জলাবদ্ধতা, কলকারখানা চালু, বিনা খরচে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে এবার ভোট দেবেন নারী ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র বলেছে, খুলনা বিভাগে মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭০ লাখ ৩৬ হাজার ৪১৩ জন, নারী ভোটার ৭০ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩৪ জন।
খুলনা জেলার ৬টি আসনে ভোটার ২০ লাখ ৭৮ হাজার ২৫৩ জন। এখানে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন ৩৮ জন প্রার্থী। বাগেরহাটের ৪ আসনে ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ২৭২ জন ভোটার, প্রার্থী ২৩ জন। সাতক্ষীরার ৪ আসনে ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন ভোটার, প্রার্থী ২০ জন। যশোরের ৬ আসনে ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ২৬৬ জন ভোটার, প্রার্থী ৩৬ জন। চুয়াডাঙ্গার ২ আসনে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮০ জন ভোটার, প্রার্থী ৬ জন।
নড়াইলের ২ আসনে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৭০২ জন ভোটার, প্রার্থী ১৬ জন। ঝিনাইদহের ৪ আসনে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭১ জন ভোটার, প্রার্থী ২১ জন। মাগুরার ২ আসনে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৭ জন ভোটার, প্রার্থী ১১ জন। কুষ্টিয়ার ৪ আসনে ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৭০ জন ভোটার, প্রার্থী ২৫ জন। মেহেরপুরের ২ আসনে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৬০৬ জন ভোটার, প্রার্থী ৭ জন।
খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
গ্রামাঞ্চলের নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপি’র দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রতিশ্র“তি বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেক নারী ভোটার এটিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন। খুলনা-১ আসনের বটিয়াঘাটার সবুজপল্লীর বিধবা সালেহা বেগম বলেন, ‘আমি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছি। ফ্যামিলি কার্ড পেলে বড় উপকার হয়।’ ক্যান্সারে আক্রান্ত এই নারী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য আমি ভোট দিতে যাব।’
বটিয়াঘাটার এক নারী ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি খুলনা-২ আসনের ভোটার। ভোট দিলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবেন কি না, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
খুলনা-৩ আসনের ভোটার খলিশপুর জুট মিল এলাকার ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী রিকশাচালক আনসার আলী একসময় খলিশপুর জুট মিলে চাকরি করতেন। মিল বন্ধ হওয়ার পর পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি। এখন মিল চালু করার প্রতিশ্র“তি পাচ্ছি, ফ্যামিলি কার্ডও দেবে। এ কারণেই ভোটকেন্দ্রে যাব।’ এ ছাড়া খুলনা-২, ৪ ও ৫ আসনের অনেক নারী ভোটার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর বিষয়টি মাথায় রাখছেন।
খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রাধান্য দিয়েছেন। শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়; নারীর কর্মসংস্থান, নারীর মর্যাদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সেক্টরগুলোতেও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণেই নারী ভোটাররা বিএনপি’র দিকেই ঝুঁকছে। নারী সমাজের বড় অংশই ধানের শীষে ভোট দেবেন বলে তিনি মনে করেন।
মহানগর জামায়াতের আমির ও খুলনা-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ইসলামে নারী মর্যাদা অনেক ওপরে। নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগসহ নারী উন্নয়নে যা যা দরকার সবই করব। জামায়াতে ইসলামী দলমত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে একটি স¤প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। ফলে নারীরা আমাকে ভোট দেবেন বলে বিশ্বাস করি।’
জানতে চাইলে খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি’র তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘নারীদের অন্ধকারে রেখে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, যা আজও জনগণ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। কাজেই, ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়-এটি মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের প্রতীক। ফলে নারীদের বড় অংশের ভোটেই আমি নির্বাচিত হবো।’
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ