খুলনা | শনিবার | ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১ ফাল্গুন ১৪৩২

শেষ হলো সংসদ ও গণভোট উন্মোচিত হোক নতুন দিগন্ত

|
১২:০৪ এ.এম | ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো ১২ ফেব্র“য়ারি। দেশের সর্বস্তরের জনগণ তো বটেই, এ ভোটের দিকে তীক্ষ নজর রেখেছে আন্তর্জাতিক মহলও। বেশ কিছু দেশ পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে। কয়েকটি দেশ নির্বাচন কেমন হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে আগামী দিনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেমন হবে, সেই ছক কষছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় রয়েছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কার্যত এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে, কারা ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, সেদিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
চব্বিশের গণ-আন্দোলনে ক্ষমতা হারায় আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর থেকে ঢাকা-দিলি­র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বলা যায় তলানিতে নেমেছে। ভিসা সুবিধা সীমিতকরণ, আমদানি-রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণসহ দুই দেশই পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে দিলি­ দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছে, তারা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যারাই ক্ষমতায় আসুক, দিলি­ তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এদিক থেকে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই নির্বাচন পৃথক গুরুত্ব বহন করছে।
অন্যদিকে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষে আগামী মাসেই দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তাদের সঙ্গেই কাজ করবে তারা। তবে এবার দেশটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করেছে। আমরা আশা করব, নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দ্রুত এগিয়ে যাবে।
অন্যদিকে এশিয়ার আরেক প্রভাবশালী দেশ চীনও বাংলাদেশের নির্বাচন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী দেশটি মনে করছে, এ নির্বাচন বাংলাদেশের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশে ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা ও অব্যাহত উন্নতি দেখতে চায় বেইজিং। আমরা আশা করব, বেইজিংয়ের এই সদিচ্ছা ভবিষ্যতেও অক্ষুণœ থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জনমনে শঙ্কা দেখা গেছে, দেশের স্বার্থ পরিপন্থী কোনো চুক্তি হলো কি না। এ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন অচলাবস্থা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক সরকার দেশের ক্ষমতায় না থাকায় দেশি-বিদেশি অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগে আগ্রহ পাননি। এ কারণে দেশের অর্থনীতি রীতিমতো ধুঁকছে। আমরা আশা করছি, নির্বাচিত নতুন সরকারের আমলে এসব বাঁধা দূর হবে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কোনো অসম চুক্তি থাকলে সেগুলো মেরামত করে কিভাবে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানো যায়, নতুন সরকারকে তা ভাবতে হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কোনো নতজানু নীতি নয়, বরং সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকুক-এটাই কাম্য।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ