খুলনা | রবিবার | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানে সম্ভাব্য ‘কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ অভিযানের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী

খবর প্রতিবেদন |
০৩:০৮ পি.এম | ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলে ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ অভিযানের যে সম্ভাবনা রয়েছে মার্কিন বাহিনী এখন তার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুই কর্মকর্তা।

মার্কিন পরিকল্পনার ধরন সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তারা এ কথা জানান।

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান চালালে, তা দুই দেশের আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় দীর্ঘ ও ভয়াবহ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। তার মধ্যেই দুই মার্কিন কর্মকর্তার এমন ভাষ্য পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে বলেও শঙ্কা রয়েছে।

ওমানে দুই পক্ষের আলোচনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তার সমরশক্তি বাড়িয়েই যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ওই অঞ্চলে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পর জানুয়ারি থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে আছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, তার সঙ্গে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড যোগ দিলে উত্তেজনার পারদ নিঃসন্দেহে নতুন উচ্চতায় উঠবে।

বিমানবাহী রণতরীর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক সেনা, যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সমরাস্ত্র জড়ো করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সংখ্যাও কম নয়, সেগুলোতেও সম্প্রতি ব্যাপক নড়াচড়া দেখা গেছে।

শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনার এক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো বেশ কঠিন।

কখনো কখনো ভয় দেখানো উচিত। এটা এমন এক জিনিস যা সত্যিই পরিস্থিতি সামলাতে সহায়তা করে, বলেছেন তিনি।

ইরানে সম্ভাব্য টানা মার্কিন অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরান নিয়ে সব বিকল্প ট্রাম্পের টেবিলে রয়েছে।

যে কোনো বিষয়ে নানা ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি শোনেন তিনি, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন আমাদের দেশ ও জাতীয় স্বার্থে যা ভালো হবে সেটার ওপর ভিত্তি করে, বলেছেন তিনি।

পেন্টাগন এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল। তবে জুনের ওই ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান ছিল খুবই স্বল্প সময়ের। সেবার মার্কিন স্টেলথ বোমারু বিমানগুলো উড়ে গিয়ে ইরানে হামলা চালিয়ে ফেরত এসেছিল। ওই হামলার পাল্টায় ইরানও কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে অতি সীমিত আকারে পাল্টা হামলা চালায়।

যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে
তবে এবার যে অভিযানের পরিকল্পনা চলছে, সেটি আরও জটিল, বলেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

টানা দীর্ঘ অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী কেবল পরমাণু স্থাপনাই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাতে পারে, বলেছেন কর্মকর্তাদের একজন। তিনি অবশ্য এ নিয়ে আর বিস্তৃত কিছু বলতে রাজি হননি।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের টানা হামলার সক্ষমতা ও দৈর্ঘ্য নিয়ে সন্দিহান। ইরানের হাতে ব্যাপক পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র থাকায় এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি বলেও মত তাদের। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অঞ্চলের অন্য দেশগুলোকেও যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে।

ইরানের পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে রয়টার্স প্রশ্ন করলেও হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এ বিষয়ে সাড়া দেয়নি।

তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি এবং দেশের ভেতর চালানো রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বারবারই ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের বিকল্প যা আছে তা হবে খুবই মারাত্মক, খুবই ভয়াবহ।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে তারা অঞ্চলজুড়ে থাকা যে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাবে।

মধ্যপ্রাচ্যে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটি রয়েছে।

তেহরান-ওয়াশিংটন নতুন যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই ‍বুধবার ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তাতে অবশ্যই ইসরায়েলের জন্য যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো থাকতে হবে।

ইরান বলেছে, তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে পারে কিন্তু তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার নিয়ে তারা কোনো ধরনের দরকষাকষিতে যাবে না।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ