খুলনা | রবিবার | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২ ফাল্গুন ১৪৩২

৩০ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ: আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা

খবর প্রতিবেদন |
০৬:৪৭ পি.এম | ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব আসনে ভোটের ফলাফল স্থগিত, পুনর্গণনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, অন্তত ৩০টি সংসদীয় আসনে ভোটের ফলাফলে অসংগতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রের রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা এবং তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগও তোলেন তিনি।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। ভোট গণনার সময় এবং ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। তাদের প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য ও কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত কপির সঙ্গে ঘোষিত ফলাফলের মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, যেসব আসনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, সেসব আসনে ফলাফল স্থগিত রেখে পুনরায় ভোট গণনা করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হবে। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হবে বলেও জানান তিনি।

জামায়াতের এই মুখপাত্র দাবি করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন কোনো ফলাফল তারা মেনে নেবেন না। জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় দলটি আইনি ও সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা ছিল জনগণের। কিন্তু বাস্তবে বহু আসনে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত অভিযোগগুলো যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা ও ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আইনি পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আইন অনুযায়ী সুবিচার পাওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।

সবশেষে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ