খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ মার্চ ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২

সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষায় কঠোর হওয়ার আহবান

বাগেরহাটে বাঘ রক্ষায় মহড়া ও শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
১১:৫১ পি.এম | ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


বাগেরহাটে নানা আয়োজনে সুন্দরবন দিবস উদযাপতি হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার বিকেলে জেলার মোংলা পৌর শহিদ মিনার চত্বরে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সুন্দরবন রক্ষায় আমরা, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের আয়োজনে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 
সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বকারী মোঃ নূর আলম শেখের সভাপতিত্বে জনসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব পরিবেশবিদ শরীফ জামিল। জনসমাবেশে মোংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান, সুন্দরবনের জেলে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন।
ধরা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব পরিবেশবিদ শরীফ জামিল বলেন, প্রতিবছর সুন্দরবন দিবসে আমরা সুন্দরবনকে রক্ষার আহক্ষান জানাই। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে সুন্দরবন ততই বিপন্ন হচ্ছে। জাতিসংঘ ও সরকারকে সুন্দরবনসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা করতে হবে। আমরা চাই নতুন সরকার অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বিজ্ঞানসম্মত একটি স্বচ্ছ সমীক্ষা করবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ, বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও অন্যান্য হুমকি থেকে সুন্দরবনের সত্যিকার সুরক্ষা দিবে। সর্বোপরি সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষায় সরকারকে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার দাবি জানান তিনি।
এছাড়া স্থানীয় অর্ধশতাধিক শিশুর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুরা রংতুলিতে সুন্দরবন, বাঘ, বনের বিভিন্ন প্রাণি, বাস্তুসংস্থান ও বনরক্ষায় করণীয় বিষয়ে তুলে ধরেন। চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা শেষে গ্রামে বাঘ আসলে করণীয় শীর্ষক এক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় প্রতীকি বাঘ সেজে শহিদ মিনার চত্বরে প্রবেশ করেন এক ব্যক্তি। স্থানীয়রা তাকে মারধর বা আটকের চেষ্টা না করে, তাকে তাড়িয়ে পুনরায় বনে পাঠিয়ে দেয়। এই মহড়ার মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঘ রক্ষায় সচেতন হচ্ছেন বলে জানান আয়োজকরা। 
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে এদিন দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব ও সেইভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী। এসময় আরও বক্তব্য দেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন, প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মোশাররফ হোসেন, আহাদ উদ্দীন হায়দার, বাবুল সরদার, আলী আকবর টুটুল প্রমুখ।
বক্তারা ১৪ ফেব্র“য়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘সুন্দরবন দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান। এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ ও শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে পৃথক-পৃথকভাবে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ