খুলনা | রবিবার | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২ ফাল্গুন ১৪৩২

ডালপালা মেলছে রোহিঙ্গা সংকট কার্যকর পদক্ষেপ নিন

|
১২:২৫ এ.এম | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


জনবহুল বাংলাদেশের ঘাড়ের ওপর বাড়তি ১২-১৩ লাখ রোহিঙ্গা যে বড় সমস্যা এ কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু হতাশার কথা হলো, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মায়ানমারে ফেরানোর ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। কয়েকবার প্রতিশ্র“তি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন, আগামী ঈদ তারা নিজ দেশে গিয়েই করতে পারবে। সেই ঘোষণার ১১ মাস অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু একজন রোহিঙ্গাও নিজ দেশে ফিরে যায়নি, বরং এক লাখ ১২ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।
পত্রিকার এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা সংকট সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়ন না করে এখন বরং উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাসনের কথা ভাবা হচ্ছে, যা স্থানীয় লোকজনের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি মোটেও অযৌক্তিক নয়।
একই সঙ্গে আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, স্পর্শকাতর এই বিষয়ে সরকারের কথায় ও কাজে সংগতি নেই। একদিকে সরকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে ক্রমেই বেশি করে জড়িয়ে যাচ্ছে।
অপর এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যৌথ বাহিনীর অভিযানে হাজারো রোহিঙ্গা আটক হয়েছে। এসব রোহিঙ্গা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার অপরাধে বাড়ির মালিকদেরও জরিমানা করেছে। কিন্তু আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা সংকট আজ ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় এসব পদক্ষেপ একেবারে সীমিত পর্যায়ের। অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে। 
কাজেই শুধু নির্বাচন ঘিরে নয়, এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করতে হবে, যেন রোহিঙ্গারা আশ্রয়শিবিরের বাইরে সহজে যাতায়াত না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন অনুপ্রবেশ শতভাগ বন্ধ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে। আমরা আশা করছি, গুরুতর এই সংকট সমাধানে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ