খুলনা | রবিবার | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২ ফাল্গুন ১৪৩২

যশোরে জামানত হারিয়েছেন লাঙ্গল ও হাতপাখাসহ ২৪ প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর |
০১:৫৫ এ.এম | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে ২৪ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তারা জামানত হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া টাকা ফেরত পাবেন না। প্রার্থিতার জন্য তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
যশোর-১ আসনে চারজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দুই লাখ ১৯ হাজার ৬২৬। এর মধ্যে জামানত রক্ষা করতে ভোট পাওয়ার দরকার ২৭ হাজার ৪৫৩। এ আসনে ভোটের হার শতকরা ৭০.৪৮।
যশোর-১ আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রাথীী জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী বক্তিয়ার রহমান। জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল পেয়েছেন এক হাজার ৩৯৮ ভোট এবং বখতিয়ার রহমান পেয়েছেন এক হাজার ৭৬৮ ভোট। এ আসনে বিজয়ী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা আজিজুর রহমান পেয়েছেন এক লাখ ১৯ হাজার ৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪২ ভোট।
যশোর-২ আসনে আটজন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা তিন লাখ ৪১ হাজার ৯৮৫। এর মধ্যে জামানত রক্ষায় প্রয়োজনীয় ভোট ৪২ হাজার ৭৪৮। এ আসনে ভোটের শতকরা ৭০.৫৩।
আসনটিতে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী ইদ্রিস আলীর প্রাপ্ত ভোট পাঁচ হাজার ৭৮১, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের মনোনীত মই প্রতীকের প্রার্থী ইমরান খানের প্রাপ্ত ভোট ৪৭২, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী জহুরুল ইসলামের প্রাপ্ত ভোট ১৮৮, ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মেহেদী হাসানের প্রাপ্ত ভোট ৩৮৯, বাংলাদেশের ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) মনোনীত টেলিভিশন প্রতীকের প্রার্থী শামছুল হকের প্রাপ্ত ভোট ২৩৩, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবিপার্টি) মনোনীত প্রার্থী রিপন মাহমুদের প্রাপ্ত ভোট ৪১৬। এ আসনে বিজয়ী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ পেয়েছেন এক লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৭ ভোট।
যশোর-৩ আসনে ছয়জনের মধ্যে চারজন প্রার্থীর জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা চার লাখ ১৫ হাজার ৬৯৮। এর মধ্যে জামানত রক্ষায় প্রয়োজনীয় ভোট ৫১ হাজার ৯৬২। এ আসনে ভোটের হার শতকরা ৬৭.৭৬।
আসনটিতে জামানত হারানো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মনোনীত মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের প্রাপ্ত ভোট ১৩ হাজার ৩২২, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের খবির গাজীর প্রাপ্ত ভোট তিন হাজার ৪০৪, গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মনোনীত চশমা প্রতীকের নিজামদ্দিন অমিতের প্রাপ্ত ভোট এক হাজার ৭৭২, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের প্রাপ্ত ভোট ৭৫৩। এ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন দুই লাখ এক হাজার ৩৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল কাদের পেয়েছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট। 
যশোর-৪ আসনে আটজনের মধ্যে ছয়জনের জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা তিন লাখ ৩১ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে জামানত রক্ষায় ভোটের প্রয়োজন ৪১ হাজার ৪২২.৫। এ আসনে ভোটের শতকরা হার ৭২.২৭।
যশোর-৪ আসনে জামানত হারানো স্বতন্ত্র প্রার্থী এম নাজিম উদ্দিন আল-আজাদের প্রাপ্ত ভোট ৭৯৭। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী বায়েজীদ হোসাইনের প্রাপ্ত ভোট এগার হাজার ৮৩৮। খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের মনোনীত মাওলানা আশেক এলাহীর প্রাপ্ত ভোট ৩০১, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ট্রাক প্রতীকের আবুল কালাম গাজীর ভোট ২৫৭, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের জহুরুল ইসলামের প্রাপ্ত ভোট এক হাজার ৭৫১, বাংলাদেশের মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) মনোনীত সুকৃতি কুমার মন্ডলের প্রাপ্ত ভোট এক হাজার ৫১০ ভোট। 
এ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রছুল পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ৯১২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৯১৭ ভোট। 
যশোর-৫ আসনে ছয়জনের মধ্যে তিনজনের জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দুই লাখ ৮৬ হাজার ৩২০। এর মধ্যে জামানত রক্ষায় ভোটের প্রয়োজন ৩৫ হাজার ৭৯০। এ আসনে ভোটের শতকরা হার ৭৬.৫০।
আসনটিতে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এম এ হালিমের প্রাপ্ত ভোট দুই হাজার ২৪৫, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী কামরুজ্জামানের প্রাপ্ত ভোট দুই হাজার ১০৩, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মনোনীত জয়নাল আবেদিনের প্রাপ্ত ভোট চার হাজার ৪০০।
এ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী এনামুল হক পেয়েছেন এক লাখ ৩২ হাজার ৮৭৫ ভাট। নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী স্বতন্ত্রপ্রার্থী কলস প্রতীকের শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৫ এবং বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রশীদ আহমাদ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮৭৫ ভোট।
যশোর-৬ আসনে পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৫০৮। এর মধ্যে জামানত রক্ষায় ভোটের প্রয়োজন ২২ হাজার ৩১৩.৫। এ আসনে ভোটের শতকরা হার ৭৭.৯০। 
যশোর-৬ আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জি এম হাসানের প্রাপ্ত ভোট ৯৯০, আমার বাংলাদেশের (এবি পার্টি)র ঈগল প্রতীকের মনোনীত মাহমুদ হাসানের প্রাপ্ত ভোট ৬৭২, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের শহিদুল ইসলামের প্রাপ্ত ভোট এক হাজার ২৮৫।
এ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের প্রার্থী মোক্তার আলী পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৩৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮৭৫ ভোট।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ