খুলনা | রবিবার | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২ ফাল্গুন ১৪৩২

সুন্দরবনের শুঁটকিপল্লী থেকে ৬ জেলেকে অপহরণ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি |
০১:৫৫ এ.এম | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর থেকে ছয় জন জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে বনদস্যুরা। শুক্রবার গভীর রাতে বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর শসস্ত্র দস্যুরা শেলার চর ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির জেলে ও শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে জেলেদের তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে শেলারচরসহ শুঁটকি উৎপাদনকারী অন্যন্য চরের জেলেদের মাঝে। 
অপহৃত জেলেরা হলেন, খাইরুল ইসলাম (৩৫), ফারুক হোসেন (২৮), শামসুল ইসলাম (২৫), সফরুল ইসলাম (৩২), মারুফ হোসেন (২৮) ও মিলন (৩০)। এদের বাড়ি খুলনার কয়রা এবং বাগেরহাটের রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শেলারচরের জেলে পল্লীতে হানা দেয় বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর একদল অস্ত্রধারী দস্যু। দস্যুরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৬ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় জেলেদের একটি ট্রলারও নিয়ে গেছে দস্যুরা। 
ওই বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেলারচরে চলতি মৌসুমে ৮০১ জন জেলে নিয়মিত শুঁটকি তৈরির কাজ করছেন। তবে, গত ১২ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অধিকাংশ জেলে ও তাদের মহাজনরা নিজ নিজ এলাকায় ভোট দিতে চলে গেছেন। একারণে শুঁটকি পল্লীর পুরোটাই জনশূন্য। পাহারাদার হিসেবে চরে অল্পসংখ্যক জেলে অবস্থান করায় দস্যুরা এই সুযোগটা গ্রহণ করেছে। অপহৃত জেলেরা কোন মহাজন বা বহদ্দারের তা জানাতে পারেননি তিনি। 
আরিফুল হক মিঠু নামে শেলারচরের একজন মহাজন জানান, এতোদিন সাগর বা সুন্দরবনে মাছ ধরার সময় বনদস্যুরা মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের ওপর নির্যাতন, চাঁদা আদায় এবং মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে নিয়ে যেতো। কিন্তু এখন দস্যুরা বনরক্ষীদের টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন জেলে পল্লীতে ঢুকে পড়েছে। ছয় জেলে অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে শুঁটকি চরের জেলেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দস্যু দমনে পূর্বের মতো সুন্দরবনে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম ছয় জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুঁটকি পল্লী থেকে জেলে অপহরণের ঘটনাটি আমরা স্বাভাবিকভাবে দেখছি না। ঘটনার পর থেকে শেলারচরে অবস্থানরত জেলেদের নিরাপত্তায় ফাঁড়ির বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার জন্য কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ