খুলনা | রবিবার | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২ ফাল্গুন ১৪৩২

স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত

বাগেরহাটে নির্বাচন পরবর্তী পাল্টা-পাল্টি হামলা-সংঘর্ষে দু’দিনে আহত অন্তত ৯০

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
০১:৫৬ এ.এম | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


বাগেরহাটে ভোট শেষে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৯০ আহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এক সমর্থক। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর।
ভোটের আগে থেকেই বাগেরহাট সদর ও কচুয়া এলাকায় বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ভোট পরবর্তী যা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নিয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী দুই দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০টি সংঘাতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া সদর উপজেলার মান্দ্রা গ্রামে পাল্টাপাল্টি বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের ১৪টি বসতবাড়ি এবং শরণখোলা-মোরেলগঞ্জে ৬টি বসত বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় গতকাল শনিবার ৬ জন ও শুক্রবার ২ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সব শেষ শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের আরপাড়া এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৩০ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য পপলু সরদার, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগর, জামায়াতের মুজাহিদসহ কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভোটের আগের রাতেও এই এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীক ও বিএনপি’র সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পারনওয়াপাড়া ও কচুয়া উপজেলার ছিটাবাড়ি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের ও বিএনপি’র প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ঘোড়া প্রতীক) সমর্থক ওসমান সরদার নামের এক যুবক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের ভীড় দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের চারজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পার নওয়াপাড়া ও ছিটাবাড়ি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু খালটি দুই উপজেলাকে বিভক্ত করেছে। সন্ধ্যার আগে দুই পক্ষ পারনওয়াপাড়া এলাকায় সংঘর্ষে জড়ায়। পরে দৌড়ে ছোট ব্রিজ পেরিয়ে ছিটাবাড়ি এলাকায় প্রবেশ করে। সেখানেও উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। পরে আহতদের বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 
নিহত ওসমান সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে। বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করা ওসমানের পৌনে চার বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। 
সংঘর্ষের সময় আহত একই গ্রামের ইমরান সরদার বলেন, শুক্রবার বিকেলে পশ্চিমপার নওয়াপাড়ার বিএনপি নেতা শহিদুলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন দা, লাঠিসোটা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কারা ঘোড়ায় ভোট দিয়েছে, তাদের খুঁজতে থাকে। যাকে সামনে পায়, তাকেই মারধর করে। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী মিলে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে আমি, ওসমানসহ অনেকে আহত হন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শামীম হোসেন বলেন, পারনওয়াপাড়া ও ছিটাবাড়ি এলাকায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের পুলিশ শনাক্ত করেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
সদর উপজেলায় চুনখোলা, মান্দ্রা, চুলকাঠিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। 
এদিকে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা দু’দিনে প্রায় ৬ দফা পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে বিএনপি ও জামায়াতের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 
কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া, আন্ধারমানিক, গোপালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গেল দু’দিনের সংঘর্ষে বিএনপি, জামায়াত ও সতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদিকে মোংলার মাদুরপাল্টা এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মারামারিতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বাগেহাটের পুলিশ সুপার মোঃ হাসান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ আসছে। সংঘর্ষ-ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত আছে। নিজের কর্মীদের শান্ত রাখার জন্য সকল প্রার্থীর সাথেও আমরা কথা বলেছি। অপরাধীদের কোন ছাড় নেই, প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ