খুলনা | সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

বিরল সূর্যগ্রহণের প্রভাব: ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরুর ঘোষণা একাধিক দেশের

খবর প্রতিবেদন |
০৪:৪৯ পি.এম | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

পবিত্র রমজান মাসের দিনক্ষণ ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস ও মহাজাগতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে ওমান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ আগামী বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

চাঁদ দেখা নিয়ে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ সালের রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে এ বছর একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) একটি বলয়াকার সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হওয়ায় সেদিন নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাওয়ার সম্ভাবনা এবং সূর্য-চাঁদের কৌণিক দূরত্ব ‘ড্যানজন সীমা’র নিচে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিস্তৃত অঞ্চলে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

যেসব দেশ ঘোষণা দিয়েছে
ওমান: উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে রমজানের তারিখ নিশ্চিত করেছে ওমান। দেশটির হিজরি মাস নির্ধারণ কমিটি জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা সম্ভব না হওয়ায় শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হবে।

তুরস্ক: আগাম জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে দেশটি ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি আরব বিশ্ব বা আমেরিকার কোথাও চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।

সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়া: দুই দেশের ইসলামিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দৃশ্যমানতার মানদণ্ড অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা যাবে না। ফলে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ ডিপার্টমেন্ট ১৯ ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রথা অনুযায়ী চাঁদ দেখার পর চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

পাকিস্তান: দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নতুন চাঁদ জন্ম নিলেও ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তা দেখা যেতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ।

রমজানের দৈর্ঘ্য ও ঈদুল ফিতর
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান মাস ২৯ দিনের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে হিসাবে ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশভেদে এক দিনের পার্থক্য দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে বর্তমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরিস্থিতির আলোকে অধিকাংশ দেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো বলে প্রাথমিক পূর্বাভাসে ইঙ্গিত মিলেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ

প্রিন্ট