খুলনা | সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

বাগেরহাটে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ওসমানের দাফন সম্পন্ন, মামলা হয়নি দুদিনেও

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
১০:০০ পি.এম | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


বাগেরহাটে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলায় নিহত ওসমান সরদারের (২৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার পারনওয়াপাড়া গ্রামে নিহতের গ্রামের বাড়ির উঠানে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় দুদিন পার হলেও মামলা হয়নি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। সদর উপজেলার পারনওয়াপাড়া ও কচুয়া উপজেলার ছিটাবাড়ি গ্রামে হওয়া দু’পক্ষের ওই সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত ওসমান সরদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার দুপুরে পারনওয়াপাড়া গ্রামের বাড়িতে আনা হয় ওসমান সরদারের মরদেহ।

সংঘর্ষের দুদিন পর হলেও রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। এমনকি জড়িত কাউকে আটকও করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকরী বাহিনী। তবে হত্যায় জড়িতদের ‘সনাক্ত করা হয়েছে’ জানিয়ে তাদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান, বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন।

সংঘর্ষে আহত পরনওয়াপাড়া গ্রামের ইমরান সরদার নিহত ওসমানের চাচাতো ভাই। প্রতিপক্ষের আঘাতে তার শরীরের বেশ কিছুস্থানে জখমসহ নাকের বাম পাশ কেটে গেছে। সেখানে সেলাই লেগেছে। ইমরান বলেন, পশ্চিম পারনওয়াপাড়ার শহিদুল হাওলাদারসহ ৪০ থেকে ৫০ জন লোকজন দা, লাঠিসোঠা নিয়ে আমাদের এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে থাকে কারা ঘোড়ায় ভোট দিছি। এই বলে যাকে পাচ্ছিল তাকে মারতে ছিল। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী মিলে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

ওই গ্রামের অন্তত ছয়জন ঘটনার জন্য বেলায়েত হোসেন ড্রিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবুল হাসান শেখ ও গোটাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল খানকে দায়ী করছেন। তাদের ভাষ্য, তাদের নেতৃত্বেই পাশের এলাকা থেকে লোকজন এই এলাকায় আসে। পরে এলাকার ছেলেদের সাথে সংঘর্ষে বাঁধলে পাশের গ্রাম ছিটাবাড়িতে গিয়েও কোপাকুপি হয়।

ওসমানের চাচাতো বোন লাইলী আক্তার বৃষ্টি বলেন, পাঁচ বছর আগে বিয়ে করে ওসমান। তাদের ঘরে একটি ছোট ছেলে সন্তান রয়েছে। সবাই এক দল করে। এই যে প্রাণডা গেল, বাচ্চা টার কি হবে, পরিবারটার কি হবে?

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে শহিদুল, আবুল হাসান ও হাফিজুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। সবার ফোনই বন্ধ রয়েছে।

পুলিশ বলছে, মামলা না হলেও তারা তদন্ত শুরু করেছে। একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে যেহেতু সন্দেহভাজন হিসেবে আটক, তাই নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

কচুয়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত ওসমানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর পরিবার মামলার জন্য আসছেন।

ভোট গ্রহণ শেষের পর থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত এবং বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে একধিক সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক আহত এবং প্রায় ২০ বসতঘর তছনছ হয়েছে।
এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাগেরহাট সদরে ২টি এবং শরণখোলায় ১টি মামলা হয়েছে।

এদিকে রোববার বিকেলে দেশব্যাপী হত্যা, সন্ত্রাস ও বিরোধী দলীয় সমর্থকদের উপর হামলার প্রতিবাদে বাগেরহাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।  শহরের নতুন কোটের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের দশানী সার্কিট হাউজের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় মিছিল থেকে ‘আমার ভাই মরলো কেন, তারেক রহমান জবাব চাই’, ‘আমার বোন ধর্ষিতা কেন, তারেক রহমান জবাব চাই’, ‘প্ল্যান প্ল্যান, কি প্ল্যান, খুন করার মাস্টার প্ল্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোরশেদ আলম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য বেলাল হোসাইন আপু , শিবিরে জেলা সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ