খুলনা | সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

নগরীতে আ’লীগ কার্যালয়ে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান, বিকেলে মাল্যদান, রাতে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১০:১৩ পি.এম | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মাল্যদান করেছেন নেতাকর্মীরা। এ সময় কার্যালয়ে তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দেন। রোববার বিকেলে নগরীর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ের এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগর জুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে রোববার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে খুলনা ওই কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া কার্যালয় ভাঙচুর এবং কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা। আগুন নিভে যায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টি এম আরিফের নেতৃত্বে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি কার্যালয়ের সামনে আসেন। তারা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে তাতে ফুলের মালা দেন। এরপর ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দেন। পরে কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ওঠার গেটে তালা লাগিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তারা। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 
প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে উপস্থিত জাহাঙ্গীর হোসেন নিজেকে ২৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সকলেরই আছে। আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই-‘আমরা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই’। আশাকরি আমাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতাকর্মীরা বলেন, দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই রোববার চারটার দিকে কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে দলীয় কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটা হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা গেছি। কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে নিচে নেমে কার্যালয়ে নটুন একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ বাধা দেয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, রোববার বিকেলে ১০-১৫ জন মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তড়িঘড়ি করে অফিস ত্যাগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন ছাত্র ওই কার্যালয়ে উঠে ছবিতে অগ্নিসংযোগ করে।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কবির হোসেন বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিল। এটি আমরা জানতে পেরে আশাপাশে বিভিন্ন স্থাপনার সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিকেলে ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এসে আগ্নিসংযোগ করে। টানানো দু’টি ছবি ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে তারা আগুন নিভিয়ে ফেলে। বিষয়টি আমরা গভীর ভাবে দেখছি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় গুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর একদিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ