খুলনা | বুধবার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২৫ চৈত্র ১৪৩২

চালের বাজার স্থিতিশীল এবং সরকারি খাদ্য মজুত বাড়াতে

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গত ৩ সপ্তাহে ৩০২৪০ মেট্রিক টন চাল আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৩৭ পি.এম | ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দেশের চালের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সরকারি খাদ্য মজুত বাড়াতে চাল আমদানিতে জোর দিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে। তৃতীয় দফায় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ৭৪৮ গাড়িতে ৩০ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন চাল দেশে প্রবেশ করেছে। ভোমরা কাস্টমস হাউস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই সরকার তৃতীয় দফায় ভারত থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ি গত ১৮ জানুয়ারি দেশের ২৩২ জন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টন চাল আমদানি করার অনুমতি দেয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর আমদানিকারকরা দ্রুততার সঙ্গে এলসি খুলে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু করেন। আমদানিকৃত চালের মধ্যে স্বল্প ও মাঝারি মানের আতপ ও বিভিন্ন প্রকারের সিদ্ধ চাল রয়েছে, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে সরবরাহ করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ভারত সীমান্তের নিকটবর্তী এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ভোমরা স্থলবন্দর আমদানিকারকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেকারণে গত তিন সপ্তাহে এই বন্দর দিয়ে ৭৪৮ গাড়িতে ৩০ হাজার ২৪০ দশমিক ৬৪ মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছে দেশের ১১৫টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
আমদানি-রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের নেতারা মনে করছেন, এই বিপুল পরিমাণ চাল বাজারে পৌঁছালে খুচরা বাজারে দামের চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ভোমরা স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভোমরা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, ভোমরা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউস। এখানে পণ্য খালাসে সময় কম লাগে এবং সার্বিক ব্যবসায়িক পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক উন্নত। এ কারণে অন্যান্য বন্দরের তুলনায় ব্যবসায়ীরা এখান দিয়ে চাল আমদানিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, খাদ্য অধিদপ্তর থেকে নতুন করে ২ লাখ  মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় দফায় গত ২১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ভোমরা বন্দর দিয়ে ৭৪৮ গাড়িতে ৩০ হাজার ২৪০ দশমিক ৬৪ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থল ও সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি ভোমরা দিয়েও বড় পরিসরে চাল আসছে। আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করছে।
তিনি আরো বলেন, গত বছর ১৫ এপ্রিল এ বন্দর দিয়ে সর্বশেষ চাল আমদানি হয়েছিল। পরে ১৯ আগস্ট থেকে এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয় এবং ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত  ৫ হাজার ৮৪৭ গাড়িতে দুই লাখ ৩৫ হাজার ৪২২ দশমিক ৩৩১ মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশে ঢোকে। দেশের শীর্ষ ১১৭টি চাল আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান চাল আমদানিতে এই বন্দর ব্যবহার করে। পরবর্তীতে গত ১৮ জানুয়ারি দেশের ২৩২ জন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টন চাল আমদানি করার অনুমতি দেয়া সরকার। ভারত থেকে চাল আমদানিতে এখন পর্যন্ত ১১৫জন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই বন্দর ব্যবহার করেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ