খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বিএনপি’র সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে

|
১১:৫২ পি.এম | ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দেশের অর্থনীতি চরম দুর্দশাগ্রস্ত। বিনিয়োগ নেই। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব আকাশছোঁয়া। লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার ও তাদের পরিবার চোখে অন্ধকার দেখছে। বেকারের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চরম পর্যায়ে। মাদকসহ নানা অপরাধ সিন্ডিকেট ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষ দিশাহারা। ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি। দেশ চলছে ধার-দেনায়। ব্যাংকিং খাত রীতিমতো ভেঙে পড়েছে। 
দেশের এমন দুঃসহ পরিস্থিতিতে মানুষ আস্থা রেখেছে বিএনপি’র ওপর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। এটি প্রায় নিশ্চিত যে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এই প্রশ্নও উঠেছে, তিনি কি পারবেন প্রায় ডুবন্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে?
গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শী নানা পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতির বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করেছে। এ সময়ে সবচেয়ে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা, যার ফলে গতি হারিয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে না গিয়ে হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন। আস্থার অভাবে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। ফলে মন্থর হয়ে পড়েছে অর্থনীতির চাকা। তাঁরা অধীর আগ্রহে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন। তাকিয়ে ছিলেন কখন আসবে রাজনৈতিক সরকার। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছে বলা যায়।
আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে পারেন এবং এই সপ্তাহের মধ্যেই দায়িত্ব নিতে পারে নতুন সরকার। নতুন সরকারের শপথের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও চলছে। দেশের বর্তমান দূরবস্থার কথা বিএনপি’র নীতিনির্ধারকদের অজানা নয়। কিভাবে মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে হবে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা তাঁদেরও রয়েছে। অতীতে অনেকবার ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। কিভাবে অর্থনীতির হাল শক্ত করে ধরতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা তাঁদের আছে। আমরা আশা করি, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এবং দৃঢ় পদক্ষেপে সে পথে এগিয়ে যাবে। ব্যবসায়ী, অর্থনীতি বিশ্লেষকরাও এ ব্যাপারে আশাবাদী।
‘একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে যখন একটি নতুন সরকার গঠিত হবে, তখন আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হতে হবে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোকে মেরামত করা। দীর্ঘদিনের লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি আর সুশাসনের অভাব বিনিয়োগকারীদের মনে যে গভীর আস্থাহীনতা তৈরি করেছে, তা দূর করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। ব্যবসায়ীদের মনে এই বিশ্বাস জন্মানো জরুরি যে বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।’
ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা বলছেন, অর্থনীতি বর্তমানে যে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফেরানোই হবে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁরা আরো বলেন, অর্থনীতির এই কঠিন সন্ধিক্ষণে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ। এ জন্য প্রথম বড় পদক্ষেপ হওয়া উচিত ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন। তারেক রহমান যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পেশাদার ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন দিতে পারেন, তবেই ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ হবে। সরকারকে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের আস্থায় নিতে হবে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের সমস্যাগুলো জেনে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
দেশের সংকটের সময় দেশের মানুষ বিএনপি’র ওপর আস্থা রেখেছে। বিএনপি’র নেতৃত্বে সংকট কাটিয়ে উঠতে চাইছে। আমরা আশা করি, বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের সেই বিশ্বাস রক্ষা করতে সক্ষম হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ