খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আজ বিকেল ৪টায়

খবর প্রতিবেদন |
১২:৪৫ এ.এম | ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন আজ বিকেল ৪টায়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, ‘নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। 
বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন।
রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মোঃ সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
এ শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন  রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিদায়ী অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে আমন্ত্রণ পেলেও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তার প্রতিনিধি যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে। একাধিক দেশের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আঞ্চলিক কূটনীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি, নপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আফগানিস্তান ছাড়া সার্কভুক্ত সব দেশ এবং চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া এবং ব্র“নেই’র শীর্ষ নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বিশেষ করে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সফরকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্কের নতুন গতি সৃষ্টির সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন বার্তা দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। শপথে অংশ নিতে তার সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১২শ’ দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ