খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সাতক্ষীরায় রমজান মাসকে সামনে রেখে অস্থির পেঁয়াজ, রসুন ও কাঁচা মরিচের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০১:৪১ এ.এম | ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজ, রসুন ও কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পেঁয়াজে দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং রসুনের দাম বেড়েছে ৪৫ থেকে ৬০টাকা পর্যন্ত। রমজানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ ও রসুন উঠানে কমিয়ে দেওয়ায় হঠাৎ করে সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাজারে মসলা জাতীয় এই পণ্য তিনটির দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়িরা। তবে স্থিতিশীল রয়েছে চালের দাম। স্বাভাবিক রয়েছে সবজির বাজার। 
সোমবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি, নতুন রসুন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা এবং পুরাতন রসুন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি। এছাড়া কাঁচা মরিচ প্রকার ভেদে ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজের নতুন পেঁয়াজ ৩৪/৩৫ টাকা, নতুন রসুন ৫৫/৬০ এবং পুরাতন রসুন ৬০/৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি। এছাড়া পাইকারি বাজারে আদা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। শুকনা মরিচ সাড়ে ৩০০ টাকা, গোল মরিচ ১১০০ টাকা, জিরা প্রকারভেদে ৬০০ টাকা থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা কেজি। তবে স্থিতিশীল রয়েছে চালের বাজার। 
সুলতানপুর বড়বাজারে ঈদের জন্য মসলা জাতীয় পণ্য কিনতে আসা কাটিয়া কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ জানান, রমজান মাসে পৃথিবীর সব মুসলিম রাষ্ট্রে নিত্য পণ্যের দাম কমে। শুধুমাত্র বাংলাদেশে রমজান মাস আসলেই সব জিনিসের দাম বাড়ে কয়েক গুণ। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজ, রসুন ও কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ফলে আমাদের মত সাধারণ ক্রেতাদের রমজানের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রমজান মাসকে পুঁজি করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়ায়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। তিনি নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে রমজানের পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি জানান। 
সুলতানপুর বড়বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা নগরঘাটা এরাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর জানান, রমজান মাসে দাম বেশি পাওয়ার আশায় কৃষকরা ক্ষেতের পেঁয়াজ উঠানো হঠাৎ করে কমিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আমাদেরকে দাম বেশি দিয়ে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। ভোটের কয়েকদিন আগের তুলনায় এখন কেজিতে ১২/১৪ টাকা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। 
বাজারে পাইকারি কাঁচা মরিচ বিক্রেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তুহিন জানান, এক সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচ ৮০/৯০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। সে সময় প্রতিদিন আমার আড়তে ২০/২৫ বস্তা করে কাঁচা মরিচ বিক্রি হতো। কিন্তু এখন সেখানে ৫/৬ বস্তার বেশি পাচ্ছি না। এই বাজারের সব কাঁচা মরিচ বাইরের জেলা থেকে আসে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সাতক্ষীরার বাজারের কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যে কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে গেছে।
সুলতানপুর বড়বাজারের মেসার্স মোল্লা ভান্ডারের মালিক পাইকারি বিক্রেতা মোঃ আব্দুল আজিজ মোল্লা জানান, রমাজন মাসে মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। অনেকেই রোজার বাজার অগ্রিম করার কারণে পেঁয়াজ ও রসুনের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। যে কারণে চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় মসলা জাতীয় এই পণ্য দু’টির দাম বেড়েছে। তবে রোজা শুরুর কয়েকদিন পর সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমে আসবে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ