খুলনা | বুধবার | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ইমরান খানের চিকিৎসার দাবিতে পাকিস্তান সরকারকে ১৪ সাবেক অধিনায়কের চিঠি

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
১২:৩০ এ.এম | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চৌদ্দজন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর কাছে চিঠি লিখে সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান-এর স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে “মর্যাদা ও ন্যূনতম মানবিক বিবেচনা” দিয়ে আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইমরান খানের চোখের জটিলতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তার পরিবার দাবি করেছে, কারাগারে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে এক চোখে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এ নিয়ে পাকিস্তানের পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্রিকেট অঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
দ্য এজ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে স্বাক্ষরকারী অধিনায়কদের মধ্যে ক্রিকেট বিশ্বের অনেক বিখ্যাত নাম রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই খেলোয়াড়ি জীবনে ইমরান খানের বিপক্ষে খেলেছেন। আবেদনপত্রটি খসড়া করেন গ্রেগ চ্যাপেল। এতে স্বাক্ষর করেছেন ইয়ন চ্যাপেল, সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, অ্যালান বর্ডার, মাইকেল অ্যাথারটন, নাসের হুসেইন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, ডেভিড গাওয়ার, স্টিভ ওয়াহ, জন রাইট, কিম হিউজ এবং বেলিন্ডা ক্লার্ক।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “তার স্বাস্থ্য নিয়ে সা¤প্রতিক প্রতিবেদন- বিশেষ করে হেফাজতে থাকার সময় তার দৃষ্টিশক্তির আশঙ্কাজনক অবনতি এবং গত আড়াই বছরে তার কারাবাসের পরিস্থিতি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।”
এতে আরও উলে­খ করা হয়, ইমরান খানের ক্রিকেটে অবদান সর্বজনবিদিত। অধিনায়ক হিসেবে তিনি পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক ক্রিকেট বিশ্বকাপ ১৯৯২ শিরোপা জিতিয়েছিলেন যা দক্ষতা, দৃঢ়তা, নেতৃত্ব ও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার এক অনন্য উদাহরণ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে।
চিঠিটি এমন সময় লেখা হয়েছে, যখন ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার প্রাপ্য চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। কয়েক মাস ধরে তার পরিবারকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেও তা এখনো মঞ্জুর করা হয়নি। গত সপ্তাহান্তে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে এমন খবর প্রকাশ পেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সাবেক ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস ও শোয়েব আখতার-ও গত সপ্তাহে ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসার আহ্বান জানান। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অজয় জাদেজা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের এ বিষয়ে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইমরান খান একাধিক মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, যা তিনি ও তার সমর্থকরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। দুর্নীতির অভিযোগে তাকে ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তার দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলেও সর্বাধিক ভোট ও আসন পায়। এছাড়া বিবাহসংক্রান্ত একটি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, “ক্রিকেট মাঠে আমাদের যে প্রতিদ্ব›িদ্বতা ছিল, খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু পারস্পরিক সম্মান অটুট থেকেছে। ইমরান খান তার পুরো ক্যারিয়ারে সেই চেতনারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এখন কর্তৃপক্ষের উচিত শালীনতা ও ন্যায়বিচারের নীতি সমুন্নত রেখে সেই সম্মান প্রদর্শন করা।”
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন-ও তার বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইমরান খানের ছেলেরা দাবি করেছেন, তাকে একটি “মৃত্যুকূপ”-এ রাখা হয়েছে এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ