খুলনা | বুধবার | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

গোলপোস্ট থেকে রাজপথের সৈনিক, এখন ক্রীড়াঙ্গণের শীর্ষে: আমিনুলের অনন্য যাত্রা

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
১২:৩২ এ.এম | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


সুসংবাদটি পেয়েছিলেন দুপুরেই। বিএনপি’র নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় শপথ নেওয়ার ডাক পান দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপি’র আহবায়ক আমিনুল হক।
রাজনীতির এই নতুন পরিচয়ের বাইরেও আমিনুলের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং ২০০৩ সালে দেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের নায়ক। মঙ্গলবার সেই সাফল্যের মুকুটে যোগ হয়েছে নতুন পালক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী থেকে রাজপথের লড়াকু সৈনিক। এখন তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গণের অভিভাবক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছিলেন আমিনুল, তবে জয় পাননি। তবুও তাকে ঘিরে গুঞ্জন থামেনি। নির্বাচিত হলে ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব তার হাতেই উঠবে এমন ধারণা ছিল জোরালো। নির্বাচনে পরাজয়ের পরও তার প্রতি আস্থা রেখেছে রাষ্ট্রপ্রধান, যা তার গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ।
ফুটবলই আমিনুলের মূল পরিচয়। ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক। এরপর ২০১১ সাল পর্যন্ত নিয়মিত ছিলেন দলে; চোট ছাড়া খুব কমই একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পাশাপাশি ২০১০ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশকে স্বর্ণ জেতান তিনি সেই টুর্নামেন্টে তার জালে বল জড়ায়নি একবারও।
২০১১ সালে বুট তুলে রাখার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন আমিনুল। শুরুটা সীমিত পরিসরে হলেও ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দৃশ্যমান মুখ। রাজপথের আন্দোলন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে তার নতুন পরিচয়। এই পথচলায় তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে; পুলিশের হাতে নিগৃহীত হওয়ার ঘটনাও আছে তার জীবনে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ক্রীড়াঙ্গনেই সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো, পিছিয়ে পড়া ক্রীড়াবিদদের সহায়তা এসব উদ্যোগ তাকে আরও আলাদা করেছে। সেই ধারাবাহিকতারই স্বীকৃতি মিলল এবার।
দীর্ঘ পথচলা, ত্যাগ-তিতিক্ষা আর নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গণের বড় দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। সংস্কারের প্রশ্নে বরাবরই সরব ছিলেন তিনি এবার সেই সংস্কারের হাল ধরার পালা। সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা, যেখানে প্রমাণ করতে হবে নিজের সক্ষমতা।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বড় স্বপ্ন দেখালেন আমিনুল, ‘‘আমাদের ২৯৫টি উপজেলা রয়েছে। প্রত্যেকটি উপজেলায় আমরা একজন করে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ দেব। আমরা যেহেতু প্রতিটি উপজেলায় যেহেতু পাঁচটি ইভেন্ট বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি, প্রতিটি ইভেন্টের জন্য তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেব। তার মানে একজন ক্রীড়া অফিসার ও ১৫ জন ক্রীড়া শিক্ষক থাকবেন। পাশাপাশি আমরা স্পোর্টস ইন্ডাষ্ট্রী তৈরি করতে চাই। আমরা চাই আমাদের ক্রীড়াঙ্গণে যেসব স্পোর্টস ইকুইপমেন্ট লাগে সেগুলো নিজেরা তৈরি করতে এবং পাশাপাশি রপ্তানি করতে। আমাদের রাজনীতিতে যে গুণগত পরিবর্তন আনার কথা বলি, আমি বিশ্বাস করি ক্রীড়াঙ্গণ হবে অন্যতম একটি মাধ্যম।’’

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ