খুলনা | বুধবার | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

মন্ত্রিসভার শপথের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের হ্যাটট্রিক

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪২ এ.এম | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন দেশের শাসন ব্যবস্থায় বিরল একটি নজির স্থাপন করেছেন। তিনটি শাসন ও রাজনৈতিক উত্তাল পরিস্থিতিতে তিনি শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন, যা বাংলাদেশের সংবিধানিক ইতিহাসে অনন্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 
প্রথমবার ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শপথ করানোর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সে সময় দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটে। শেখ হাসিনা পালিয়ে দেশত্যাগ করলে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্র্বতী সরকার গঠিত হয়। এ সরকারকেও শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, যা দেশের সংবিধান অনুযায়ী শান্তি ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্র“য়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়। ফলাফল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আবারও শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ করান, যিনি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতির এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শপথ, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময়ে অন্তর্র্বতী সরকারের শপথ এবং মঙ্গলবার ১৭ ফেব্র“য়ারি বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর শপথ মিলিয়ে তিনি সংবিধান অনুযায়ী হ্যাট্রিক সম্পন্ন করেছেন। এটি বাংলাদেশের সংবিধানিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা এবং সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। শপথ অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি দেশের সব স্তরের জনগণকে সংবিধান ও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একত্রিত হয়ে দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করার আহŸান জানান।
এই শপথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন, যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। সে সময় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ